সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজের সন্তানের স্কুল, সংসারের বাজার কিংবা ব্যক্তিগত প্রয়োজনের হিসাব মেলানোর আগেই যে মানুষটি ছুটে যান বিদ্যালয়ের দিকে, তাঁর অপেক্ষায় থাকে শিশুরা। কারও হাতে বই নেই, কারও পড়ায় মন নেই, কেউ আগের দিনের পাঠ বুঝতে পারেনি, আবার কেউ হয়তো পরিবারের নানা সমস্যায় মানসিকভাবে ভেঙে আছে। শ্রেণিকক্ষে ঢোকার পর নিজের ক্লান্তি ভুলে সেই শিশুদের সামনে দাঁড়ান শিক্ষক। বইয়ের পাঠ শেষ করার পাশাপাশি চেষ্টা করেন তাদের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে।
শেষে বিদ্যালয়ের ছুটি হলেও শেষ হয় না তাঁর কাজ। বাড়ি ফিরে খাতা দেখা, পরদিনের পাঠ প্রস্তুত করা, প্রশ্ন তৈরি, শিক্ষার্থীর দুর্বলতা নিয়ে ভাবা কিংবা কোনো অভিভাবকের ফোনের উত্তর দেওয়া—চলতে থাকে এসব। নিজের সন্তানের জন্য যে সময়টুকু দিতে পারেননি, সেই সময়েরও একটি অংশ হয়তো ব্যয় হয় অন্যের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে। এর ফাঁকে দিনের পর দিন শিকার হন কতশত বঞ্চনার, তবু শিরদাঁড়া শক্ত রেখে মাথা না নুইয়ে উন্নত রাখেন শির।
আজ ৫ অক্টোবর, বিশ্ব শিক্ষক দিবস। পৃথিবীর কোটি কোটি শিক্ষককে সম্মান জানাতে দিনটি পালিত হচ্ছে। কিন্তু একটি ফুল, একটি শুভেচ্ছা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টের মধ্যেই কি শিক্ষকের প্রতি আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়? নাকি এই দিনটি হওয়া উচিত তাঁদের জীবন, পেশাগত বাস্তবতা, ত্যাগ ও প্রাপ্য মর্যাদা নিয়ে নতুন করে ভাবার দিন?
৫ অক্টোবরের গল্পটি কেবল ফুল, শুভেচ্ছা কিংবা শিক্ষকদের সম্মান জানানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শিক্ষকদের অধিকার, দায়িত্ব, পেশাগত মর্যাদা ও কর্মপরিবেশ নিয়ে ছয় দশকের আন্তর্জাতিক ইতিহাস। ১৯৬৬ সালের ৫ অক্টোবর প্যারিসে শিক্ষকদের মর্যাদা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সুপারিশ গ্রহণের মধ্য দিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, ২৮ বছর পর সেই দিনটিই পায় বিশ্ব শিক্ষক দিবসের পরিচয়।
বিশ্ব শিক্ষক দিবসে আজকের দিনটি অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হবে। ইউনেস্কোর উদ্যোগে ১৯৯৪ সাল থেকে প্রতি বছর এ দিনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়ে আসছে। দিবসটি পালনের লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষকদের স্মরণ করা এবং তাঁদের সম্মান জানানো। এ বছরে শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য ‘স্ট্যান্ডিং উইথ টিচার্স: সিক্সটি ইয়ার্স অব প্রটেকটিং দ্য প্রফেশন, অ্যাডভান্সিং ইটস স্ট্যাটাস, শেপিং আওয়ার ফিউচার্স’। এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারাবিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও এই দিবস পালিত হবে।
দিবসটি পালনের অংশ হিসেবে আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা' অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত কেন্দ্রীয় উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষকদের প্রত্যেকের হাতে নগদ ২ লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননা সনদ তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বছর প্রথমবারের মতো প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ১০০ জন নির্বাচিত শিক্ষককে জাতীয় পর্যায়ে ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ প্রদান করা হবে।
২০২৬ সালে এসে সেই ১৯৬৬ সালের সুপারিশের বয়স ৬০ বছর। সময়ের সঙ্গে পৃথিবী বদলেছে, বদলেছে শিক্ষাব্যবস্থাও। প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার, জলবায়ু পরিবর্তন, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা, অভিবাসন ও বাস্তুচ্যুতির মতো বিষয় এখন শিক্ষকতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ইউনেসকো বলছে, এসব পরিবর্তন শিক্ষকদের সামাজিক, পেশাগত ও বস্তুগত মর্যাদার ওপর প্রভাব ফেলছে। কোথাও শিক্ষকতা পেশা যথেষ্ট স্বীকৃতি পাচ্ছে না, কোথাও শিক্ষকদের পেশাগত স্বাধীনতা ও নীতিনির্ধারণে মতামত দেওয়ার সুযোগ সীমিত। আবার কম বেতন, অতিরিক্ত কর্মভার ও অনুকূল কর্মপরিবেশের অভাবও শিক্ষকদের কাজকে কঠিন করে তুলছে। এ কারণেই এবারের বিশ্ব শিক্ষক দিবস শুধু অতীতের একটি আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্তের ৬০ বছর পূর্তি উদযাপন নয়। বরং আগামী দিনে শিক্ষকতা পেশাকে কিভাবে আরো মর্যাদাপূর্ণ, নিরাপদ ও কার্যকর করা যায়, সেই প্রশ্নও সামনে আনছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গুণী শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি ও পেশাগত স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে এ বছর জাতীয় সম্মাননার পরিধি ১২ জন থেকে বাড়িয়ে ১০০ জনে উন্নীত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক স্তরের (স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি) পর্যায়, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁদের বাছাই করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ বছরের বিশ্ব শিক্ষক দিবসের নীতিমালা অনুযায়ী, দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ পালন করা হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে, এবার প্রাথমিক স্তরে ১০টি, মাধ্যমিক স্তরে ২০টি, কলেজে ২৫টি, সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০টি, মেডিকেল কলেজে ১০টি, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩টি, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩টি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪টি এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কোটায় ৫টিসহ সর্বমোট ১০০ জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং ইউজিসি গঠিত পৃথক সার্চ কমিটির প্রস্তুতিকৃত প্যানেল থেকে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি এই ১০০ জন শিক্ষককে চূড়ান্ত করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন সম্প্রতি এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, বিগত আমলে জাতীয় পর্যায়ে মাত্র ১২ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হলেও এবারই প্রথম প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষার প্রতিটি ধারাকে অন্তর্ভুক্ত করে ১০০ জন শিক্ষককে মূল্যায়নের আওতায় এনেছে বর্তমান সরকার। তিনি বলেন, শিক্ষকমণ্ডলী তরুণ প্রজন্মের মাঝে সততা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধের বীজ বপন করে আত্মমর্যাদাশীল জাতি গড়ে তোলেন। শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা ও পেশাগত সুবিধা নিশ্চিত করে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত গবেষণামুখী ও বাস্তবসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত কর্মরত শিক্ষকের সংখ্যা কয়েক লাখ। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়—প্রতিটি স্তরেই শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব পালন করছে। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তর পর্যন্ত সব মিলিয়ে আনুমানিক ১৩ থেকে ১৪ লাখ শিক্ষক নিয়োজিত আছেন।
বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) এবং সর্বশেষ বার্ষিক প্রাথমিক বিদ্যালয় শুমারির (এপিএসসি) তথ্য অনুযায়ী, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় অংশজুড়ে রয়েছেন প্রাথমিক স্তরের শিক্ষকরা, যেখানে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে মোট শিক্ষকের সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ ৭ হাজার ২১৬ জন এবং এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতেই কর্মরত আছেন প্রায় ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৬২৪ জন। যাদের মধ্যে নারী শিক্ষকের হার প্রায় ৬৫.৮৭ শতাংশ। অন্যদিকে, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ পোস্ট-প্রাইমারি স্তরে মোট শিক্ষকের সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৩৯ জন, যার মধ্যে শুধু মাধ্যমিক বিদ্যালয়েই নিয়োজিত আছেন ২ লাখ ৯৩ হাজার ২৮৯ জন শিক্ষক।
এ ছাড়া দেশের উচ্চশিক্ষা বা বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং অধিভুক্ত কলেজ মিলিয়ে বর্তমানে প্রায় ৯৩ হাজার শিক্ষক পাঠদান করছেন, যার মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের সংখ্যা প্রায় ১৬ লাখ ৩৯৯ জনেরও বেশি। তবে কওমি মাদ্রাসা ও কিছু অননুমোদিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ তথ্য এই সরকারি পরিসংখ্যানের বাইরে থাকায় প্রকৃত শিক্ষকের মোট সংখ্যা এর চেয়ে কিছুটা কম-বেশি হতে পারে। কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মিলিয়ে শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত মানুষের সংখ্যা আরো বড়। এই বিশাল শিক্ষকসমাজ শুধু পাঠ্যবই শেষ করার দায়িত্ব পালন করছে না।
দেশের সবচেয়ে প্রত্যন্ত গ্রামের বিদ্যালয় থেকে শুরু করে রাজধানীর আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সবখানেই তাঁরা একটি প্রজন্মের চিন্তাভাবনা ও মূল্যবোধ তৈরির কাজ করছেন। শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ নেওয়া হয় ১৯৬৬ সালে। ওই বছরের ৫ অক্টোবর ইউনেস্কো ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ‘শিক্ষকদের মর্যাদা সম্পর্কিত সুপারিশ’ গ্রহণ করে। দিনটির মূল লক্ষ্য শুধু শিক্ষকদের সম্মান জানানো নয় বরং একই সঙ্গে শিক্ষকতা পেশার গুরুত্ব তুলে ধরা এবং শিক্ষকদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা সামনে আনা।
শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী দৈনিক এদিনকে বলেন, “বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষকদের দুরবস্থার কারণ হলো, উপযুক্ত শিক্ষক পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ শিক্ষকদের বেতন-ভাতা পর্যাপ্ত নয়, তাছাড়া শিক্ষকদের বিভিন্ন খাতে সুযোগ-সুবিধা কম । যার কারণে ভালো শিক্ষক এখন পাওয়া যাচ্ছে না। রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থার আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় শিক্ষকদের থেকে পিয়নের ক্ষমতা বেশি। শিক্ষা নিয়ে পরিবর্তনে ঐক্যবদ্ধতা জরুরি। তাছাড়া শিক্ষাখাতে সরকারি বরাদ্দ পর্যাপ্ত নয়। যেটুকু বরাদ্দ আছে সেটার সঠিক ব্যবহার হয় না। আর শিক্ষার্থীদের কথা যদি বলি, যারা পড়ালেখায় ভালো তারা তো ভালোই, কিন্তু ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর খোঁজ কেউ রাখে না। সমাজ ব্যবস্থার সাথে শিক্ষাব্যবস্থার যে দুরবস্থা চলছে সেই ব্যাপারে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”
ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর আবু মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, ‘শিক্ষক জীবনে এতটা বছর পার করে যা মনে হয় - বর্তমান সময়ে শিক্ষক হিসেবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো শিক্ষার্থীদের জীবনমুখী লেখাপড়ার দিকে আগ্রহী করে তোলা। ছাত্রজীবন হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ার সাথে সাথেই নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার উপযুক্ত সময়। একজন সচ্চরিত্র শিক্ষক এই ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের আদর্শ। বেসরকারি পর্যায়ে অনেক প্রতিষ্ঠানই শিক্ষকতা চালিয়ে যাওয়া এখন ভীষণ কষ্টসাধ্য। কারণ বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা অপর্যাপ্ততা। এই ক্ষেত্রে পরিবর্তন প্রয়োজন, তা না হলে শিক্ষকতাকে ভালোবেসে এই পেশায় মানুষ আসতে চাইবে না। রাষ্ট্র ও সমাজের উচিৎ শিক্ষকদের মূল্যায়ন করা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদেরকে প্রাধান্য দেওয়া, যারা তাদের প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিয়ত অবদান রেখে চলেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









