ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি আর ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর খেলায় আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে উদ্যাপিত হয়েছে বিজয়া দশমী। ভক্তদের অশ্রুসজল শ্রদ্ধার্ঘ্য ও নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সাঙ্গ হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব।
জগৎজননী দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাতে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরসহ দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভিড় জমান হাজারো সনাতন ধর্মাবলম্বী। পাঁচ দিনের সার্বজনীন আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পর দেবীকে বিদায়ের এই ক্ষণে আনন্দের পাশাপাশি ভক্তদের মনে ছড়িয়ে পড়ে গভীর বিষাদ।
গতকাল বুধবার সকালে ঐতিহ্যবাহী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে বিজয়া দশমীর বিশেষ পূজা ও অঞ্জলি নিবেদনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দেবীকে বিদায় জানানোর আনুষ্ঠানিকতা।
পূজারি ও ভক্তরা ধূপ, দীপ, বেলপাতা এবং নানাবিধ মাঙ্গলিক উপচারে দেবীর চরণে শেষ অর্ঘ্য নিবেদন করেন। এ সময় সমবেত প্রার্থনায় পরিবারের মঙ্গল, সবার সুস্থতা এবং দেশ ও জাতির শান্তি-সম্প্রীতি ও সার্বিক সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।
পূজার মূল আচার শেষে শাস্ত্রীয় বিধি মেনে দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার মণ্ডপকেন্দ্রিক আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। এরপর মন্দিরের নির্ধারিত পুকুরে সম্পন্ন হয় ঘট বিসর্জন। শাস্ত্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হতেই শুরু হয় দেবী বরণ ও ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর খেলা। সধবা নারীরা দেবী দুর্গার কপালে ও চরণে সিঁদুর ছুঁইয়ে প্রণাম জানান এবং পানের খিলি ও মিষ্টি মুখ করিয়ে দেবীকে বিদায় জানান।
পরে তারা একে অপরের কপাল ও মুখে সিঁদুর মাখিয়ে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন। রক্তিম সিঁদুরে রাঙা মুখ, হাসি আর বিদায়ের অশ্রুতে মন্দির প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এর আগে সকালে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে ভক্তদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রদীপ জ্বালিয়ে, ধূপ-ফুল, বেলপাতাসহ বিভিন্ন উপাচারে দেবীর চরণে শেষবারের মতো অর্ঘ্য নিবেদন করেন তাঁরা। প্রার্থনায় উঠে আসে পরিবার-পরিজনের মঙ্গল, সবার সুস্থতা ও দেশের শান্তি–সমৃদ্ধির কামনা।
দেবীর বিদায়ে মন খারাপ হলেও উৎসবের আনন্দে শামিল হন দিতিপ্রিয়া বণিক। তিনি বলেন, ‘মা চলে গেছেন, তাই মনটা একটু খারাপ। তবু আমরা এটাকে উদ্যাপন করছি। আসছে বছর আবার হবে, এই প্রত্যাশা। সবাই যেন সুস্থ থাকে, দেশের ভালো কিছু হয়, পরিবারের সবাই ভালো থাকে, এই প্রার্থনা করি।’
হিন্দু ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, মহালয়ার দিন ‘কন্যারূপে’ মর্ত্যে আসা দেবী দুর্গা টানা পাঁচ দিনের পূজার পর দশমীর দিন পিতৃগৃহ ছেড়ে কৈলাসে স্বামীগৃহে ফিরে যান। অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে দেবীর এই বিজয়ের কারণে দিনটি ‘শুভ বিজয়া’ হিসেবে উদযাপিত হলেও বিদায়বেলায় ভক্তদের হৃদয় বিষাদে আপ্লুত হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









