সীমিত আয়ের মানুষের স্বস্তির শেষ আশ্রয়টুকুও হাতছাড়া হতে চলেছে। লাগামহীন বাজারে একেকটি ডিম কিনতে এখন গুনতে হচ্ছে ১৪ টাকা। শুধু ডিমই নয়, সপ্তাহের ব্যবধানে নতুন করে চড়েছে প্রায় সব ধরনের মাছ ও নিত্যদিনের সবজির দাম। প্রতিটি সবজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। আর মাছ আগের মতো বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে মুরগি ও গরুর দাম প্রায় আগের মতো বলা যায়। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত ক্রেতারা; যাদের দৈনিক বাজেটে কেনাকাটার হিসাব মেলানো দিন দিন দুঃসাধ্য হয়ে উঠছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেগুন, করলা, বরবটি, ঢ্যাঁড়স, পটল ও কাঁকরোলসহ বেশির ভাগ সাধারণ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। তবে তুলনামূলক কিছুটা কম দামে শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তবে দেশি শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হয়। বর্ষা মৌসুমেই বাজারে আসা শীতের আগাম সবজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজিতে। এর মধ্যে সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁপে কেজি ৪০ টাকা। এদিকে সবজির উচ্চমূল্যের মধ্যে আবারও দাম বেড়েছে কাঁচা মরিচের বাজারে।
গত সপ্তাহের ১২০ টাকার কাচামরিচ আজকে ১৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। দাম সবচেয়ে বেশি এমন সবজির মধ্যে লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা ও টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বরবটি, ঝিঙে ও করলার কেজি ৮০ টাকা। লাউ প্রতি পিচ ৫০ থেকে ৭০ টাকা, কচুরমুখি ৮০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে।
অন্যদিকে শাকের দামও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। লাল শাক ১০ টাকা প্রতি আঁটি। কলমি শাক ১০ টাকা প্রতি আঁটি। ডাঁটা শাক ৩০ থেকে ৪০ টাকা প্রতি আঁটি। পুঁইশাক ৩০ থেকে ৫০ টাকা প্রতি আঁটি। লাউ শাক ৪০ থেকে ৬০ টাকা প্রতি আঁটি। কচু শাক ২৫ থেকে ৩০ টাকা প্রতি আঁটি বিক্রি হচ্ছে।
সবজি ক্রেতা নাইম মিয়া বলেন, বাজারে সব সবজির দামই বেড়ে গেছে, প্রতি কেজিতে অন্তত ১০ টাকা করে বেড়েছে। ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজিই পাওয়া যাচ্ছে না। আর টমেটো, বেগুন কিংবা করলা কিনতে গেলে ১০০ টাকার বেশি দিতে হচ্ছে। আমাদের মতো যারা দিনে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা আয় করে, তারা চাল কিনবে, মাছ কিনবে নাকি সবজি কিনবে? সরকারের উচিত আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করা।
বাজারে আরও ঘুরে দেখা যায়, মুরগির বাজারেও দামে তেমন পরিবর্তন নেই। রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ডিমের দামও আগের উচ্চমূল্যেই রয়েছে। প্রতি ডজন ১৬৫ টাকা ও চারটি ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহে এক ডজন ডিম কিনলে বিক্রেতারা দুই টাকা কম রাখলেও এখন তা হচ্ছে না। তবে গরুর মাংসের দাম আগের মতো রয়েছে। প্রতি কেজি গরুর জন্য গুনতে হচ্ছে ৮০০ টাকা।
ডিম বিক্রেতা রাজিব হোসেন বলেন, এখন ফার্মের মুরগির ডিম ৫৫ টাকা হালি বিক্রি করা হচ্ছে। ডিমের দাম বাড়ছে, কমার কোনো নামগন্ধও নেই।
এদিকে মাছের বাজারেরও একই চিত্র। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০, রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি। পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ ও ট্যাংরা ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে। মাঝারি আকারের রুই কেনা যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে। এ ছাড়া, রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে হাজারের বেশি টাকা গুনতে হবে। তবে মাছের সাইজ এবং জীবিত ও মৃত’র উপর দাম নির্ভর করে। প্রতিটি বাজারে ১০ থেকে ২০ টাকা কেজি প্রতি কম-বেশি হতে পারে।
রায়ের বাজারের মাছ বিক্রেতা ইমরান মিয়া বলেন, মাঝারি আকারের রুই মাছ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। নদীর বেলে মাছের মতো দেশি ও তুলনামূলক চাহিদাসম্পন্ন মাছ কিনতে গেলে প্রতি কেজিতে ১ হাজার টাকার বেশি গুনতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, ভেটকি মাছ ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং চাষের কই প্রায় ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পোয়া মাছ ২৬০ টাকা এবং শোল মাছ ৭০০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছের দাম ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মাছের দাম মূলত আকার, মান এবং জীবিত না মৃত, তার ওপর অনেকটাই নির্ভর করে। একই ধরনের মাছের ক্ষেত্রেও বাজার ও সরবরাহের ওপর ভিত্তি করে প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত দামের পার্থক্য হতে পারে। সরবরাহ কম থাকলে বা বড় আকারের মাছের চাহিদা বাড়লে দাম আরও কিছুটা বেড়ে যায়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









