বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় রংপুর ২০০৮ সালের ১২ অক্টোবর যাত্রা শুরুর পর থেকে ১৭ বছরে মোট ছয়জন উপাচার্য দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক ইতিহাসে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে উপাচার্যদের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও মামলার অভিযোগ। বিশ্ববিদ্যালয়টির ছয় উপাচার্যের মধ্যে পাঁচজনই বিভিন্ন মামলার আসামি এবং তিনজন কারাগারে গেছেন। বর্তমানে দুজন সাবেক উপাচার্য কারাগারে রয়েছেন।
প্রতিষ্ঠার পর প্রথম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ড. মো. লুৎফর রহমান। তবে মাত্র সাত মাসের মাথায় তাকে অপসারণ করা হলে দ্বিতীয় উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান ড. আব্দুল জলিল মিয়া।
দায়িত্ব পালনকালে ড. আব্দুল জলিল মিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনুমোদন ছাড়া নিয়োগ প্রদান এবং কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা দায়ের করে। প্রায় চার বছর দায়িত্ব পালনের পর ২০১৩ সালের ৪ মে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তিনি পদত্যাগ করেন এবং পরে গোপনে কানাডায় চলে যান। দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করলে ২০১৭ সালের ২০ জুলাই রংপুরের একটি আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তৃতীয় উপাচার্য এ কে এম নুরুন্নবীর বিরুদ্ধেও আর্থিক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদক মামলা করে।
চতুর্থ উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। ২০২৫ সালের আগস্টে দুদকের একটি মামলায় রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
পঞ্চম উপাচার্য ড. হাসিবুর রশিদও আলোচিত হন ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলায়। ওই মামলায় তাকে প্রধান আসামি করা হয়। মামলায় মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছিল এবং তিনি ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত। গত শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বর্তমান ও ষষ্ঠ উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলীর বিরুদ্ধেও ২০২৩ সালের জুনে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়োগ পরীক্ষায় খাতা সৃজন, টেম্পারিং ও জালিয়াতির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।
সব মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে ছয়জন উপাচার্যের মধ্যে পাঁচজনই বিভিন্ন মামলার আসামি। দ্বিতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম উপাচার্য কারাগারে গেছেন এবং বর্তমানে চতুর্থ উপাচার্য ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ ও পঞ্চম উপাচার্য ড. হাসিবুর রশিদ কারাগারে রয়েছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









