বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

এস আলম-সামিট গ্রুপ দেশি না বিদেশি?

প্রকাশিত: ২০ মে ২০২৬, ১০:৫৩ এএম

আপডেট: ২০ মে ২০২৬, ১০:৫৩ এএম

এস আলম-সামিট গ্রুপ দেশি না বিদেশি?

কোন প্রতিষ্ঠানকে বিদেশি প্রতিষ্ঠান বলব, আর কোন প্রতিষ্ঠানকে দেশি বলব, সেটা অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট নয়। যেমন এস আলমকে দেশি না বিদেশি বলব? সামিট গ্রুপ কি দেশি না বিদেশি? এসব স্পস্ট নয়। এমন মন্তব্য করছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।

তিনি বলেন, যখন দরকার হয়, সুযোগ–সুবিধা নিতে হয়, তখন তারা (এস আলম, সামিট) দেশি হয়ে যায়। আবার যখন (দেশের পরিবেশ) তাদের স্বার্থের প্রতিকূলে চলে যায়, তখন তারা বিদেশি হয়ে যায়। এ জন্য আমাদের আরও স্পষ্ট আইন দরকার। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে 'কৌশলগত সম্পদে দেশীয় বিনিয়োগের অগ্রাধিকার'- শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এ কথা বলেন বদিউল আলম মজুমদার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। 

অনুষ্ঠানে দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরের উন্নয়নের উদাহরণ টেনে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সেসব দেশ মেধা ও সুশাসনের ওপর ভিত্তি করে এগিয়ে গেছে। অথচ বাংলাদেশ বিনিয়োগের স্থবিরতা ও দুর্নীতির কারণে পিছিয়ে আছে। এ সময় ভারতের আদানি গ্রুপের সঙ্গে হওয়া বিদ্যুৎ চুক্তির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বদিউল আলম মজুমদার জানান, ওই সময় সরকারি কর্মকর্তাদের ডেকে এনে একতরফা চুক্তিতে সই করতে বাধ্য করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে আমরা “হরর স্টোরি” শুনেছি। যেমন আদানির সঙ্গে সব চুক্তিপত্র তারা সেখান থেকে (ভারত) তৈরি করে এনেছিল। তারপর এখানে আমাদের সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে যাঁরা সংশ্লিষ্ট ছিলেন, তাঁদের ডেকে সই করার জন্য বলা হয়। একইভাবে, আমাদের বিশেষ বাহিনীর সহায়তায় ব্যাংক দখল করতে দেখেছি। 

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, দেশে দুর্নীতির ধরন বদলে গেছে। আগে অনেকটা দৃশ্যমান দুর্নীতি হতো। এখন মিলিয়ন ডলারের অদৃশ্য দুর্নীতি হয়। চুরি-লুটপাট আমাদের অস্থিমজ্জায় মিশে গেছে। এই বিষয়ই আমাদের এখন প্রধান শত্রুতে পরিণত হয়েছে। এ জন্য সর্বস্তরে পেশাদারত্ব, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি বন্ধে বেশি নজর দিতে হবে। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি (জোনায়েদ সাকি) বলেন, কর্মকর্তাদের পদোন্নতি বা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনার চেয়ে তাদের কর্মদক্ষতা বা ‘পারফরম্যান্স’-কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, রাজনৈতিক বিবেচনার চেয়ে প্রত্যেকের কাজের গুণমানই হবে প্রধান মাপকাঠি। অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনতে বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি দেশি সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান জোনায়েদ সাকি।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমাদের জাতীয় মনোভাব সামন্তবাদী বা জমিদারি সংস্কৃতি ঢুকে গেছে। যার ফলে আমরা খুব দ্রুত বশ্যতা স্বীকার করি। ভারতের সঙ্গে ২৫ বছরের চুক্তি বা আমেরিকার সঙ্গে টিকফা চুক্তি—সব ক্ষেত্রেই বলা হয় যে আমাদের উপায় নেই। 

জোনায়েদ সাকি বলেন, বর্তমান সরকারের মূল নীতি হলো 'সবার আগে বাংলাদেশ' এবং জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখেই বিভিন্ন নীতি ও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রশাসনিক সক্ষমতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার সমন্বয় ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনায় কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন সম্ভব নয়। দেশের প্রশাসনকে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করায় কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার এখন পারফরম্যান্সকে মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি করতে চায়। রাজনৈতিক বিবেচনার পরিবর্তে কে কতটা কাজ করতে পারছে, সেটাকেই গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট। তিনি বলেন, সদ্য অনুমোদিত তিন লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ঘোষিত হয়েছে। এর আগের বছরের সংশোধিত এডিপি দুই লাখ কোটি টাকা যার বাস্তবায়ন হার নিয়ে প্রশ্ন উঠছে এবং এটা লুকানোর কিছু নেই। প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা, ব্যয় বৃদ্ধি, সমন্বয়ের অভাব এবং 'ইনফ্লেটেড বাজেট' বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।  

জোনায়েদ সাকি বলেন, অনেক সময় প্রকল্পগুলোর মধ্যে সমন্বয় না থাকায় কাঙ্ক্ষিত সুফলও পাওয়া যায় না। ফলে জনগণের অর্থের অপচয় ঘটে। বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেকোনো মূল্যে বিনিয়োগ সরকারের নীতি নয়। বরং এমন বিনিয়োগকে উৎসাহ দেওয়া হবে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, প্রযুক্তি হস্তান্তর নিশ্চিত করবে এবং দেশীয় উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বাড়াবে। তিনি আরও বলেন, সরকার ব্যবসা সহজীকরণ এবং ব্যবসার ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। লাইসেন্সিং জটিলতা কমানো, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু করা এবং বিনিয়োগকারীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রযুক্তি হস্তান্তরের প্রশ্নকে এখন গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। মেট্রোরেল, অটোমেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির যুগে বাংলাদেশকে নিজস্ব সক্ষমতা অর্জন করতে না পারলে পরনির্ভরশীল হয়ে পরবে বলে সতর্ক করেন প্রতিমন্ত্রী। বিদেশি বিনিয়োগের ইতিবাচক ফল পেতে হলে মুনাফার পুনর্বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরির শর্ত নিশ্চিত করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ''অনেক দেশ এসব শর্ত মেনে সফল হয়েছে, বাংলাদেশকেও সেই পথে এগোতে হবে।

নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ইরানের মতো দেশ যদি আমেরিকার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নিজের অস্তিত্ব জানান দিতে পারে, তবে আমরা কেন (চুক্তির ক্ষেত্রে) আমাদের স্বার্থ রক্ষা করতে পারব না? 

মূল প্রবন্ধে সিএসআরের নির্বাহী পরিচালক সাকিব আনোয়ার জানান, চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) পরিচালনা নিয়ে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের দুটি দেশ—সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ড ও সৌদি আরবের আরএসজিটি সরাসরি প্রতিযোগিতায় নেমেছে। তবে এই দুই বহুজাতিক কোম্পানির চেয়েও বেশি রাজস্ব দেওয়ার প্রস্তাব করেছে দেশি প্রতিষ্ঠান এমজিএইচ গ্রুপ। কিন্তু তা সত্ত্বেও সরকার ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে মূল্যায়ন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে।

Advertisement
এদিনের সব

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.