গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) কার্যত ফাঁকা হয়ে গেছে। মঙ্গলবার বিকেলে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণার পর অধিকাংশ শিক্ষার্থী রাতেই ক্যাম্পাস ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যান।
বুধবার (২০ মে) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, প্রধান ফটকসহ পকেট গেটও বন্ধ রয়েছে এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, যাদের বাড়ি দূরে তারা বুধবার সকালেও ক্যাম্পাস ত্যাগ করেছেন। এ কারণে সকাল ৯টা পর্যন্ত পকেট গেট খোলা ছিল।
এদিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন নবনিযুক্ত ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল। বুধবার সকাল ১১টার দিকে ডুয়েটের পাশের উপজেলা পরিষদে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে একাধিক শিক্ষক নিশ্চিত করেছেন।
ডুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. খসরু মিয়া জানান, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভিসি একাই বৈঠক করেছেন। সেখানে অন্য কোনো শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন না।
ভিসির বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আলোচনা চললেও এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো সমাধানে পৌঁছানো যায়নি।’’
শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার গাজীপুর মেট্রোপলিটন সদর দপ্তরের সভাকক্ষে শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করেন ভিসি। ওই বৈঠকে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির বিষয়টি তুলে ধরা হয়। পরে শিক্ষকদের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার অনুরোধ জানান ভিসি। শিক্ষার্থীরা সেই অনুরোধে সাড়া দিলেও বুধবারের বৈঠকের আলোচনার বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি।
ভিসি নিয়োগকে কেন্দ্র করে গত ছয় দিন ধরে টানা বিক্ষোভ, সংঘর্ষ, হামলা ও ভাঙচুরে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে ডুয়েট ক্যাম্পাসে। শিক্ষার্থীদের দাবি, নবনিযুক্ত ভিসিকে প্রত্যাহার করে নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ডুয়েটের কোনো শিক্ষককে ভিসি হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন ও শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা।
মঙ্গলবার বিকেলে পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী হাসানুর রহমান ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। এর আগে আন্দোলনকারীরা ‘লাল কার্ড’ ও ‘ব্লকেট’ কর্মসূচি পালন করেন।
হাসানুর রহমান বলেন, মিথ্যা ট্যাগ ও মামলা দিয়ে আন্দোলন দমনের চেষ্টা চলছে। তবে শিক্ষার্থীরা তাদের তিন দফা দাবিতে অনড়। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না এলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।’’
একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের ছাত্ররাজনীতি করতে না দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ডুয়েট প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১) থেকে ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও স্থবির হয়ে পড়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









