রাজধানীর পল্লবীর বাউনিয়াবাধ এলাকায় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের দখল হয়ে যাওয়া সরকারি জমি উদ্ধার অভিযানকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (২০ মে) সকাল থেকে পরিচালিত এ উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে কালসী স্টিল ব্রিজ ও সুইচ গেট সংলগ্ন এলাকায় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। অভিযানে ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল বাতেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য অংশ নেন।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় সরকারি জমি দখল করে অবৈধভাবে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছিল।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে অসংখ্য বস্তিঘর, গ্যারেজ, ভাঙারির দোকান, রাজনৈতিক ক্লাব এবং মাদকসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনার স্থান গড়ে তোলা হয়েছিল। এসব অবৈধ স্থাপনার মাধ্যমে প্রায় ৫০ বিঘা সরকারি জমি দখলে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠে এসেছে।
অভিযান শুরুর পরপরই উত্তেজনা বাড়তে থাকে। স্থানীয়দের দাবি, উচ্ছেদ কার্যক্রমে বাধা দিতে যুবদল নেতা লালচান এবং তার অনুসারীরা সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং হামলা চালায়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অভিযানে অংশ নেওয়া সদস্যরা চাপে পড়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ছত্রভঙ্গ হয়ে যেতে দেখা যায়। প্রাণরক্ষার জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যদের দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে একজন ব্যক্তিকে ঘিরে ধরে মারধর করা হচ্ছে। পরবর্তীতে তাকে উদ্ধার করতে গেলে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরাও হামলার মুখে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন সাংবাদিক অভিযোগ করেন, ঘটনার ভিডিও ধারণ ও তথ্য সংগ্রহের সময় তাদের কাজেও বাধা দেওয়া হয়। এমনকি কিছু ব্যক্তিকে সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতেও দেখা গেছে বলে দাবি করেন তারা।
ঘটনার পর এলাকাজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সরকারি জমি উদ্ধার অভিযানকে কেন্দ্র করে কারা হামলার সঙ্গে জড়িত এবং ঘটনার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









