রাজধানীসহ দেশজুড়ে নারী ও শিশুদের ওপর চলমান নৃশংস সহিংসতা, নিপীড়ন প্রতিরোধ এবং ছোট্ট শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার বিচার দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি)। অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত এবং একটি নিরাপদ, মানবিক সমাজ গঠনের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সংগঠক গ্রুপ’-এর ব্যানারে এবং ক্যাম্পাসের সকল সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের যৌথ সহযোগিতায় এ আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকশত সাধারণ শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত সহকারী প্রক্টর ড. মো. গাজী সাখাওয়াত হোসেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা দেশের বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ বেলাল বলেন, “আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, যার যে দায়িত্ব তাকে সেটা সঠিকভাবে পালন করতে হবে। আপনারা শুধু সংবিধানের পাতা নিয়ে পড়ে আছেন, কিন্তু মাঠপর্যায়ে মানুষের নিরাপত্তা নেই। আমরা নতুন সরকারকে সময় দিয়েছি বলেই এতদিন রাজপথে আসিনি। কিন্তু আর কত? আমরা দেশে প্রকৃত আইনের শাসন দেখতে চাই। রামিসা সহ এ পর্যন্ত যতগুলো অনাকাঙ্ক্ষিত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সবগুলোর দ্রুততম সময়ে বিচার করতে হবে।”
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি মো. মেহেদী হাসান সোহাগ এই নৃশংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “বিচারহীনতার সংস্কৃতিই অপরাধীদের আরও বেশি ভয়ংকর ও বেপরোয়া করে তোলে। তাই শুধু অপরাধীকে গ্রেফতার করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না, দৃশ্যমান ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের সংবিধান মানুষের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়। কিন্তু বাস্তবে যদি আমাদের নারী ও শিশুরা ঘরে-বাইরে নিরাপদ না থাকে, তবে বুঝতে হবে এই বিচারব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করার সময় এসেছে। আমরা মানবতার পক্ষে এবং সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে।”
শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. গাজী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “আমি আজ এখানে প্রক্টর হিসেবে নয়, বরং এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিক হিসেবে নৈতিকতার জায়গা থেকে দাঁড়িয়েছি। আমি মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই—আপনারা একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন। আমাদের এমন একটি নিরাপদ আইনি পরিবেশ উপহার দিন, যাতে আমাদের আর ক্ষোভ নিয়ে রাজপথে নামতে না হয়। কোনো ধরনের সামাজিক বিশৃঙ্খলা বা অরাজকতা আমাদের কাম্য নয়। আমরা শুধু রামিসা হত্যার দ্রুত ও সুনির্দিষ্ট বিচার চাই।”
মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিশু রামিসার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং দেশজুড়ে নারী-শিশু নির্যাতন বন্ধে সরকার কঠোর পদক্ষেপ না নেয়, তবে ক্যাম্পাস থেকে আরও বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









