জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সাত দিনব্যাপী ‘৪র্থ আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব-২০২৬’ শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগ এ নাট্যোৎসব আয়োজন করে।
রবিবার (১২ জুলাই) বিকেলে নতুন কলা ভবনের নিচতলায় বিভাগের মিলনায়তনে উৎসবের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। উদ্বোধক ছিলেন ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইস্রাফীল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, “যে দেশে জ্ঞানীর সম্মান হয় না, সে দেশে জ্ঞানীর জন্ম হয় না। প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব আবুল হায়াত একজন অনন্য প্রতিভার অধিকারী, জননন্দিত অভিনেতা, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও প্রেরণার বাতিঘর। তাঁকে বিশেষায়িত করার ভাষা আমার জানা নেই, আমি তাঁর সন্তানতুল্য। আমি আশা করি, এই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে একেকজন আবুল হায়াত তৈরি হবে। তিনি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছেন, এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”
তিনি আরো বলেন, “নাট্যকলা ও পরিবেশনা একটি সংস্কৃতি, একটি শিল্প। আমাদের অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীরা দেশ-বিদেশে অভিনয় ও পরিবেশনার মাধ্যমে দেশের পরিচিতি তুলে ধরতে পারেন।” শেষে তিনি নাট্যোৎসবের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক ড. আরিফ হায়দার। স্বাগত বক্তব্য দেন নাট্যোৎসব আয়োজন কমিটির সদস্যসচিব ও নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মাজহারুল হোসেন তোকদার। সভাপতিত্ব করেন আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক ও বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ইসমত আরা ভূঁইয়া ইলা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সৈয়দ মামুন রেজা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব আবুল হায়াতকে ‘নাট্যজন সম্মাননা’ প্রদান করা হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন তাঁর হাতে সম্মাননা তুলে দেন।
সম্মাননা গ্রহণ করে আবুল হায়াত আবেগাপ্লুত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, এ ধরনের সম্মাননা যেমন দীর্ঘদিনের কাজের স্বীকৃতি, তেমনি ভবিষ্যতের কাজের দায়িত্বও আরও বাড়িয়ে দেয়।
আয়োজকেরা জানান, ১২ থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন কলা ভবনের জিয়া হায়দার ল্যাবে নাট্যোৎসবের নাটকগুলো মঞ্চস্থ হবে। নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার অংশ হিসেবে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
উৎসবে মোট সাতটি নাটক মঞ্চস্থ হবে। প্রথম দিন মঞ্চায়িত হবে শাহমান মৈশান রচিত, সনজিত কুমার দের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় ঢাকার ক্ষ্যাপাটে প্রযোজনা দলের ‘ভাষা অথবা প্রেমের রাজনৈতিক বিপর্যয়’।
পরবর্তী দিনগুলোতে পর্যায়ক্রমে মঞ্চস্থ হবে জাফরিন হক তরুর পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় ‘কালিকা’, লী ব্লেজিং রচিত ও মোহাম্মদ মিজারুল কায়েসের অনূদিত ‘ইনডিপেন্ডেন্স’, ইয়াজো ইয়ামামাতো রচিত ও অধ্যাপক আব্দুস সেলিমের অনূদিত ‘একশ বস্তা চাল’, বার্টোল্ট ব্রেখটের রচনা থেকে আসাদুজ্জামান নূরের রূপান্তরিত ‘দেওয়ান গাজীর কিসসা’, শওকত ওসমানের ‘ক্রীতদাসের হাসি’ এবং সমাপনী দিনে সাদাত হাসান মান্টোর গল্প অবলম্বনে তুষার রায়ের নাট্যরূপ ও রাজা দের নির্দেশনায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কাঁকিনাড়া প্রযোজনা দলের ‘পঞ্চমীর চাঁদ’।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









