পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার গৌরীগ্রাম ইউনিয়নের হাড়িয়াকাহন গ্রামে এক বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত মহব্বত আলী খাঁ (স্থানীয় মৃত তায়জাল খাঁ-এর ছেলে) নামের এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে ধরার পর গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে তাকে ‘জুতার বাড়ি’ দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় বাড়িতে ওই কিশোরী একা ছিল। সেই সুযোগে প্রতিবেশী মৃত তায়জাল খাঁ-এর তৃতীয় পুত্র মহব্বত আলী বাড়িতে প্রবেশ করে এবং ওই প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে কিশোরীর চিৎকারে বাড়ির আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে।
ঘটনাটি থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে স্থানীয় প্রভাবশালীদের উপস্থিতিতে একটি গ্রাম্য সালিশ ডাকা হয়। সালিশে মহব্বত আলীকে শারীরিক শাস্তি হিসেবে ‘২০টি জুতার বাড়ি’ দেওয়ার রায় দেওয়া হয় এবং সেখানেই বিচারকার্য সম্পন্ন করা হয়। গুরুতর এই অপরাধকে এভাবে লঘু শাস্তির মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করায় সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টা একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, এমন অপরাধের বিচার গ্রাম্য সালিশে করার কোনো সুযোগ নেই। অপরাধীকে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে দ্রুত পুলিশের কাছে সোপর্দ করা উচিত ছিল।
ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার পেছনে কারা জড়িত এবং কেন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









