সরকারি তিতুমীর কলেজের চারটি হলের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক আবাসিক ফি নির্ধারণকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
প্রথমে কলেজ প্রশাসন হল ফি ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করলেও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তা সংশোধন করে লিফটযুক্ত অপরাজিতা ছাত্রীনিবাস ও শহীদ মামুন ছাত্রাবাসের ফি ৭ হাজার ৮০০ টাকা এবং লিফটবিহীন সুফিয়া কামাল ও সিরাজ ছাত্রীনিবাসের ফি ৭ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
নতুন ফি-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর সোমবার (২০ জুলাই) রাত ১০টার দিকে আবারও আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে ৭ হাজার টাকা ফি নির্ধারণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু পরে তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অন্যান্য কলেজের তুলনায় তিতুমীর কলেজের হল ফি প্রায় ২ হাজার টাকা বেশি। অথচ হলের সুযোগ-সুবিধা সেই অনুপাতে উন্নত নয়। লিফটযুক্ত হলের একটি লিফট বছরের বেশিরভাগ সময় বিকল থাকে, ফলে অনেক শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন ১০ তলা পর্যন্ত সিঁড়ি ব্যবহার করে উঠানামা করতে হয়। এছাড়া খাবারের মান, পরিচ্ছন্নতা, ফ্রিজসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিয়েও দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে হল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করে আন্দোলন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায়।
বৈঠকে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ফি নির্ধারণের আগে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি এবং ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধিরাও বিষয়টি তাদের অবহিত করেননি। তারা হল পরিচালনার ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব প্রকাশ এবং ফি নির্ধারণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তবে ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
অন্যদিকে কলেজ প্রশাসনের দাবি, হল পরিচালনার বিভিন্ন ব্যয় বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত অর্থ জমা দেওয়া শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









