জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) অর্থনীতি বিভাগের একটি শ্রেণিকক্ষে সিলিং ফ্যান খুলে পড়ে এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। পরবর্তীতে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং শ্রেণিকক্ষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৭/বি নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
আহত শিক্ষার্থী আসমা বিনতে মফিজ অর্থনীতি বিভাগের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের (১৯তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সবাই শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় হঠাৎ করেই সিলিংয়ের সঙ্গে সংযুক্ত ফ্যানটি খুলে নিচে পড়ে। এতে ফ্যানের একটি পাখার আঘাতে আসমা বিনতে মফিজ আহত হন। পরে সহপাঠীরা তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে গেলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আহত শিক্ষার্থী আসমা বিনতে মফিজ বলেন, “আমরা শ্রেণিকক্ষে বসে ছিলাম। হঠাৎ করেই সিলিং ফ্যানটি খুলে নিচে পড়ে যায়। এতে আমার মুখের বাম পাশে আঘাত লাগে। এখনো সেখানে ব্যথা অনুভব করছি।”
তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের ঘটনা শিক্ষার্থীদের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং শ্রেণিকক্ষের সব ফ্যান ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পরীক্ষা করে ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।”
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী মুন্না মিয়া বলেন, “ক্লাস শুরুর আগেই হঠাৎ ফ্যানটি ভেঙে বেঞ্চের ওপর পড়ে। আসমা বেঞ্চের একপাশে বসে থাকায় ফ্যানের পাখার আঘাতে আহত হয়। পরে আমরা তাঁকে মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাই এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করি।”
তিনি আরও বলেন, “অর্থনীতি বিভাগের শ্রেণিকক্ষের অবকাঠামোগত অবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ রয়েছে। নিরাপদ পরিবেশে পাঠদান নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।”
এ ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ভবনের শ্রেণিকক্ষের ফ্যান ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের নিরাপত্তা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শরীফ মোশারফ হোসেন বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ফ্যানটির একটি স্ক্রু ঢিলা থাকায় সেটি খুলে গিয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই আহত শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে পাঠানোর ব্যবস্থা করি। পাশাপাশি প্রকৌশল (ইঞ্জিনিয়ারিং) দপ্তরকে বিভাগের সব সিলিং ফ্যান দ্রুত পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব ফ্যানে ত্রুটি রয়েছে, সেগুলো অপসারণ বা মেরামতের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। আমরা চাই, বিভাগের প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন নির্ভয়ে ও নিশ্চিন্তে শ্রেণিকক্ষে পাঠগ্রহণ করতে পারে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









