পতাকা উত্তোলন, বেলুন ও পায়রা উড়ানো, কেক-কাটা, জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, আবাসিক হলগুলোতে গণভোজ ও জুলাই বিপ্লবে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া-মাহফিলসহ দিনব্যাপী নানা আয়োজনে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) ‘জুলাই গনঅভ্যুত্থান দিবস’ পালন করা হয়েছে।
৫ আগস্ট (বুধবার) সকালে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়।
প্রধান ফটকে থেকে বিজয় র্যালি আরম্ভ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একাডেমিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। এরপরে যবিপ্রবির জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একাডেমিক ভবনের অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফ হোসেন গ্যালারীতে শুরু হয় “জুলাই ২০২৪: গণআকাঙ্ক্ষা, সংগ্রাম ও নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন” শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান।
যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীরের সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সম্মানিত সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. রাফিউল হাসান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে জুলাই আন্দোলনে শহীদ আল আমিনের পরিবারকে সম্মাননা স্মারক ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে যবিপ্রবি কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ফারুক হাসান বলেন, ‘‘আমরা দেখেছি জুলাইতে সারাদেশে কিভাবে গুলির মুখে শিক্ষার্থীরা দাড়িয়েছিল। স্নাইপাররা গুলি ছুড়লেও শিক্ষার্থীরা সেই গুলিকে তোয়াক্কা করেনি। আজ সেসকল জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণ করছি যাদের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি একটি নতুন বাংলাদেশ।’’
যবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পাশে আমরা দাঁড়িয়েছিলাম বলে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমরা দমে যায়নি। নতুন করে হেলমেট বাহিনী তৈরি হোক এটা আমরা চাই না, আজ সেই অগ্নিঝরা দিনগুলোর কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে যাচ্ছি।’’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসির সম্মানিত সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘‘জুলাই আমাদেরকে নতুনভাবে স্বাধীনতার সংজ্ঞা শিখিয়েছে। কিন্তু আমরা জুলাইকে সঠিক পন্থায় ব্যবহার করতে পারিনি। জুলাই নিয়ে কেউ ব্যবসা শুরু করলে সেই জুলাই তার স্বকীয়তা হারাবে এবং রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা টেকসই হবে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুলাইকে ধারণ করেন এবং তরুণ প্রজন্মের পাশে থাকতে চান। সরকার শিক্ষা খাতের বাজেট বৃদ্ধি করেছেন এবং সামনে আরো বৃদ্ধি করবেন। প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নের কিছু সময় দরকার। উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকারের একটি বড় পদক্ষেপ। সরকার তরুণদের দক্ষ করার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে যা জুলাইয়ের চেতনার বহিঃপ্রকাশ।’’
যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, ‘‘ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে জুলাই বিপ্লব পর্যন্ত সকল শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং যারা আহত তাদের আশু সুস্থতা কামনা করছি। আমি নিজেই একজন সম্মুখ যোদ্ধা ছিলাম। আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের উপর জুলুম নির্যাতন দেখে এর প্রতিবাদ করায়, আমাকে হুমকি দেওয়া হয়। কিন্তু আমি দমে যায়নি কারণ থেমে গেলে অন্যায়কারী হতাম। দেশের সকল পাবলিক, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, স্কুলসহ বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে। শিশুসহ সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে। এতো রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে আমরা যে দেশ পেয়েছি এই দেশ যদি আমরা বিনির্মাণ করতে না পারি এটা আমাদের ব্যার্থতা হবে। এই দেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলা আমাদের দায়িত্ব। জুলাইয়ের সকল শহীদদের সাহসে আমরা বলীয়ান হয়ে একটি বৈষম্যহীন দেশ গড়ে তোলাই হবে আমাদের অঙ্গীকার।’’
আলোচনা সভা শেষে যবিপ্রবির কেন্দ্রীয় মসজিদে বাদ জোহর জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও যারা অসুস্থ রয়েছে সেসকল বীরদের আশু সুস্থতা কামনায় দোয়া-মোনাজাত করা হয়। এছাড়াও এদিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









