কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার দ্রুত বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. শামসুজ্জামান মিলকী, বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. গোলাম মাওলাসহ বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার, অভিযুক্তদের প্রকৃত বয়স নির্ধারণ এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মোসাব আহমেদ সোহাগ বলেন, ‘আজ থেকে প্রায় এক মাস আগে অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়। এরপরও বিচারের দাবিতে আমাদের মানববন্ধন করতে হচ্ছে, যা লজ্জাজনক। এক মাস পেরিয়ে গেলেও বিচার বিভাগ দ্বিচারিতা করছে। অভিযুক্তদের কিশোর প্রমাণের চেষ্টা চলছে। আমরা বায়োলজিক্যাল টেস্টের মাধ্যমে তাদের প্রকৃত বয়স নির্ধারণ করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাই।’
আরেক শিক্ষার্থী শানীন অশ্রু বলেন, অভিযুক্তরা ১৮ বছরের কম বয়সী হলেও প্রচলিত আইন পরিবর্তন করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো অপরাধী যেন আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে পার না পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
অধ্যাপক ড. শামসুজ্জামান মিলকী বলেন, ‘যেখানে আমরা আজ মানববন্ধন করছি, সেখানে অপ্রতিমের বাবাকে কোর্টে ঘুরতে হচ্ছে। যত দিন এই বিচার নিষ্পত্তি না হবে, তত দিন আমরা রাস্তায় দাঁড়াব। রাষ্ট্রের কর্ণধারদের দৃষ্টি আকর্ষণে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখব। অপ্রতিম হত্যার ব্যাপারে কোনো প্রহসনমূলক বিচার আমরা মানব না। হত্যাকারীদের সংশোধনাগারে পাঠিয়ে বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করাও মেনে নেব না।’
তিনি আরও বলেন, অপ্রতিম হত্যার বিচার ও খুনিদের ফাঁসি না হওয়া পর্যন্ত বাংলা বিভাগ শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ চালিয়ে যাবে।
বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. গোলাম মাওলা বলেন, ‘বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। আমাদের সন্তানেরা মারা যাচ্ছে, কিন্তু আমরা যথাযথ বিচার পাচ্ছি না। সুষ্ঠু সমাজ নির্মাণ করতে হলে বিচারপ্রক্রিয়া সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।’ তিনি জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বয়সের অজুহাত বা আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে যেন কোনো অপরাধী বিচার থেকে রেহাই না পায়, সে দাবি জানান।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন শনিবার দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অপ্রতিম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৬), মো. কামরুল হাসান (১৫) ও মো. সিয়াম (১৫) নামের চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









