কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ১৬তম রসায়ন অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে কুমিল্লা অঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৬৩৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের রসায়নবিষয়ক জ্ঞান বৃদ্ধি, বিজ্ঞানচর্চায় আগ্রহ সৃষ্টি ও মেধার বিকাশের লক্ষ্যে এ আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহযোগী সংগঠন ‘রসায়ন সমিতি’।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে এ অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকেরা জানান, প্রতিযোগিতায় কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুর অঞ্চল থেকে ৬৮০ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেন। তাঁদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৬৩৮ জন।
অলিম্পিয়াডের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এ কে এম রায়হান উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও আমন্ত্রিত বক্তা ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন কুবির রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অলিম্পিয়াডের সদস্যসচিব সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, রসায়ন শুধু পরীক্ষাগার বা রাসায়নিক বিক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই এর ভূমিকা রয়েছে। এ অলিম্পিয়াডের উদ্দেশ্য শুধু বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে রসায়নের ব্যবহার ও গুরুত্ব সম্পর্কে আগ্রহ তৈরি করা। প্রায় সাড়ে ৬০০ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ তাঁদের এ বিষয়ের প্রতি আগ্রহেরই প্রমাণ।
প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম বলেন, এ ধরনের প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হতে হবে। মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার পড়ালেখা ও ভালো ফলাফলের অন্তরায় উল্লেখ করে তিনি এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। ভালো টেক্সটবই ও শিক্ষকের নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রতিদিন নিয়মিত ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পড়াশোনার পরামর্শও দেন তিনি।
অলিম্পিয়াডে দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থী মোন্তাছির ভূঁইয়া বলেন, নিজেকে সাধারণ শিক্ষার্থী মনে করতেন তিনি। প্রতিযোগিতায় ভালো করার প্রত্যাশাও খুব বেশি ছিল না। তবে দ্বিতীয় হওয়ার পর তার অনুভূতি ছিল অসাধারণ। ফলাফলের খবর বাবা-মাকে জানাতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
সদস্যসচিব সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, পাঠ্যবইয়ের বাইরেও রসায়নকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা এবং শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল ও বিশ্লেষণধর্মী চিন্তার বিকাশে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুরের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আয়োজকদের অনুপ্রাণিত করেছে। এ অলিম্পিয়াডের মাধ্যমে ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার মতো মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আয়োজন সফল করতে বাংলাদেশ রসায়ন সমিতি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক, স্বেচ্ছাসেবক ও আয়োজক কমিটির সদস্যদের সহযোগিতার কথা জানান আয়োজকেরা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









