ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) মহাপরিচালকের অপসারণ ও বিচারের দাবিতে ১৪-দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের তৎপরতাকে চরম রাজনৈতিক দ্বিচারিতা বলে আখ্যায়িত করেছে বাংলাদেশ হেফাজতে ইসলাম ও ইমাম-খতিব পরিষদ। আলেম নেতারা এই দাবিকে সুযোগসন্ধানী চক্রান্ত এবং ফ্যাসিবাদের দোসরদের রূপ পরিবর্তনের নতুন নাটক বলে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে উলামায়ে কেরাম বলেন, ‘‘বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের অন্যতম সহযোগী হিসেবে যারা এতদিন স্বৈরাচারের হাতকে শক্তিশালী করেছে, আজ তাদের মুখে এই ধরনের দাবি স্রেফ হাস্যকর ও দ্বিমুখী নীতির বহিঃপ্রকাশ। দীর্ঘ সময় ধরে ফ্যাসিবাদের দালালি করে যারা আলেম-উলামাদের ওপর জুলুম-নির্যাতনের নীরব অংশীদার ছিল, তারা এখন নিজেদের অতীত অপরাধ ঢাকতে এবং রাজনৈতিক সুবিধা নিতে নতুন রূপ ধারণ করছে।’’
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত দিনে যারা স্বৈরাচারের সুবিধাভোগী হয়ে নিজেদের আখের গুছিয়েছিল, আজ তারা পিঠ বাঁচাতে এবং দ্বীনি অঙ্গনে নতুন করে বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে মাঠে নেমেছে। দেশের সচেতন আলেম সমাজ ও তাওহিদী জনতা এই ধরনের কোনো সুযোগসন্ধানী চক্রান্ত কোনোভাবেই বরদাশত করবে না।
হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরীর শীর্ষ আলেম মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, বিগত দেড় দশক ধরে যারা খুনি ও জালিম সরকারের ক্ষমতার হালুয়া-রুটি খেয়েছে, শাপলা চত্বরের গণহত্যাসহ আলেমদের ওপর ইতিহাসের বর্বরোচিত জুলুম-নির্যাতনে স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে কাজ করেছে, আজ তারা বিপ্লবী সাজতে চাইছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন দেশের আলেম সমাজ ও তাওহিদী জনতার একটি আবেগ ও আস্থার জাতীয় দ্বীনি প্রতিষ্ঠান। এই পবিত্র প্রতিষ্ঠানটিকে কোনো বিশেষ চক্রান্তকারী মহলের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের স্বার্থে ব্যবহার করার অপচেষ্টা চালানো হলে তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের সুবিধাভোগীরা এখন ভোল পাল্টে ভোলানাথ সাজার যে অপচেষ্টা চালাচ্ছে, দেশের জনগণ তা ধরে ফেলেছে। ফ্যাসিবাদের এই দোসরদের কোনো নাটকই আর এ দেশে মায়াজাল ছড়াতে পারবে না। দ্বীনি অঙ্গনে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে হেফাজতে ইসলাম সর্বস্তরের তৌহিদী জনতাকে সাথে নিয়ে রাজপথে তার দাঁতভাঙা জবাব দেবে।
ইমাম-খতিব পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী বলেন, বিগত সরকারের আমলে যারা সুবিধাভোগী ছিল, তারা এখন ভোল পাল্টে সাধু সাজার চেষ্টা করছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান, এটিকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অপচেষ্টা দেশের আলেম সমাজ ও সাধারণ মানুষ মেনে নেবে না। আমরা যেকোনো মূল্যে এই ধরনের চক্রান্ত রুখে দেব।
এদিকে ইমাম-খতিব পরিষদের মহাসচিব মুফতি আজহারুল ইসলাম বলেন, যারা এতদিন আলেমদের ওপর জুলুম-নির্যাতনে স্বৈরাচারী সরকারকে মদদ দিয়েছে, তাদের মুখে এখন নীতিবাক্য মানায় না। নিজেদের অতীত অপকর্ম আড়াল করতেই তারা এখন ইফা মহাপরিচালককে নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছে। দেশের তাওহিদী জনতা এদের রূপ পরিবর্তনের নাটক ধরে ফেলেছে। দ্বীনি অঙ্গনে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে আলেম সমাজ ঘরে বসে থাকবে না।
বিবৃতিতে ফ্যাসিবাদের দোসরদের এই রূপ পরিবর্তন ও চক্রান্তের বিরুদ্ধে দেশের সর্বস্তরের তৌহিদী জনতা এবং ওলামায়ে কেরামকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









