পবিত্র ঈদুল আযাহা সামনে রেখে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গোলাপগঞ্জ পশুর হাট এখন জমজমাট। ঈদের শেষ মুহূর্তের কেনাবেচায় হাটজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। দূর-দূরান্ত থেকে খামারি ও ব্যবসায়ীরা নানা জাতের গরু, ষাঁড় ও মহিষ নিয়ে হাজির হয়েছেন হাটে। আর পছন্দের কোরবানির পশু কিনতে সকাল থেকেই ভিড় করছেন ক্রেতারা।
সোমবার (১৮ মে) সকালে উপজেলার নিজপাড়া ইউনিয়নের গোলাপগঞ্জ পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, ছোট, মাঝারি ও বড় আকৃতির শত শত গরু সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে। প্রতিটি পশুর দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে আকার, ওজন, স্বাস্থ্য ও জাতভেদে। বিশেষ করে বড় ও স্বাস্থ্যবান গরুগুলোর দাম হাঁকা হচ্ছে লাখ টাকার ওপরে।
হাটে আসা ক্রেতা মো. সৈকত ইসলাম বলেন, “সকালে গরু কিনতে এসেছি। এখনো পছন্দ হয়নি। ভালো ও স্বাস্থ্যবান গরু পেলেই কিনে নিয়ে যাব।”
অপরদিকে বীরগঞ্জ পৌর এলাকা থেকে আসা মাহাবুর রহমান আঙ্গুর জানান, দীর্ঘ সময় ঘুরে অবশেষে একটি গরু পছন্দ হয়েছে। তিনি ৮৫ হাজার টাকায় গরুটি কিনেছেন। তার ভাষ্য, “ভালো গরুর দাম একটু বেশি হলেও কোরবানির জন্য মানসম্মত পশুই সবাই খুঁজছেন।”
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম বলেন, “এবার মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। সাধারণ ক্রেতারা বাজেটের মধ্যে ভালো পশু খুঁজছেন, তাই মাঝারি গরুর বিক্রিও বেশি হচ্ছে।”
হাট ঘুরে আরও দেখা যায়, দেশীয় জাতের পাশাপাশি উন্নত জাতের বেশ কয়েকটি বিশাল আকৃতির গরু দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কাড়ছে। কিছু গরুর দাম এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকারও বেশি চাওয়া হচ্ছে। দাম নিয়ে দরদাম চললেও শেষ পর্যন্ত ক্রেতারা পছন্দের পশু কিনে বাড়ি ফিরছেন।
খামারিরা জানান, সারা বছর লালন-পালন করা পশু নিয়ে তারা এবার বেশ আশাবাদী। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে বেচাকেনা। শেষ সময়ের হাটে বিক্রি আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঐতিহ্যবাহী গোলাপগঞ্জ পশুর হাট এখন কেবল কেনাবেচার কেন্দ্র নয়, বরং ঈদকে ঘিরে গ্রামীণ অর্থনীতি ও মানুষের আনন্দ-উচ্ছ্বাসের এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









