মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

নেছারাবাদে নির্মল ওঝার রহস্যজনক মৃত্যু

প্রকাশিত: ১৯ মে ২০২৬, ১০:১৬ পিএম

আপডেট: ১৯ মে ২০২৬, ১০:১৬ পিএম

নেছারাবাদে নির্মল ওঝার রহস্যজনক মৃত্যু

পিরোজপুরের নেছারাবাদে নিখোঁজের একদিন পর উদ্ধার হওয়া নির্মল হালদার (৬০) ওরফে নির্মল ওঝার লাশ ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে রহস্য ও নানা প্রশ্ন? কেউ বলছেন স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা লুটের উদ্দেশে তাকে হত্যা করা হয়েছে, আবার কেউ মনে করছেন ওঝালী সংক্রান্ত বিরোধের জেরেও এ ঘটনা ঘটতে পারে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে স্বরূপকাঠি সদর ইউনিয়নের পানাউল্লাহপুর গ্রামের শিক্ষক শাহ আলমের পরিত্যক্ত ঘরের পাশ থেকে নির্মল হালদারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত নির্মল ওঝা নেছারাবাদ উপজেলার আটঘর-কুড়িয়ানা ইউনিয়নের পশ্চিম কুড়িয়ানা গ্রামের বিপেন হালদারের ছেলে।

নিহত নির্মলের ছেলে সুমন হালদার কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তার বাবা সবসময় গলায় দেড় ভরি ওজনের দুটি স্বর্ণের লকেট পরতেন এবং সঙ্গে টাকা-পয়সা ও দামীও টাচফোন রাখতেন। তার দাবি, পরিচিত কেউ কৌশলে ডেকে নিয়ে হত্যা করে এসব আত্মসাৎ করেছে।

তিনি আরও জানান, সোমবার (১৮ মে) প্রতিদিনের মতো বিকেলে বাড়ি থেকে কুড়িয়ানা বাজারে বের হন তার বাবা নির্মল হালদার। সাধারণত রাত আটটার মধ্যে বাড়ি ফিরলেও ওইদিন রাত নয়টা পর্যন্ত না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। মোবাইলে ফোন দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে থানায় জিডি করতে যান তারা। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে জানতে পারেন পাশ্ববর্তী স্বরূপকাঠি সদর ইউনিয়নের পানাউল্লাহপুর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাড়ির পাশে তার লাশ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় একাধিক প্রতিবেশী জানান, প্রায় ত্রিশ বছর আগে ঝালকাঠি থেকে পশ্চিম কুড়িয়ানায় এসে বসবাস শুরু করেন নির্মল। প্রথম জীবনে তিনি খুবই দরিদ্র ছিলেন। কখনো মাছ ধরতেন, আবার কখনো অন্যের জমিতে কৃষিকাজ করতেন। তবে গত এক দশকে ওঝালী করে হঠাৎ আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হয়ে ওঠেন।

তাদের ভাষ্য, অনেকের কাছে তার ওঝালী সফল হলেও কারো ক্ষেত্রে কাজ হতো না। হয়তো কারো কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। সেই রাগ থেকেই দূর থেকে এসে কেউ তাকে হত্যা করতে পারে বলে ধারণা তাদের। তবে স্থানীয়দের কেউ এ ঘটনায় জড়িত নয় বলেও দাবি করেন তারা।

কুড়িয়ানা বাজারের চা দোকানি নূরজাহান বেগম জানান, সোমবার সন্ধ্যার পর ঝড়ের সময় নির্মল তার দোকানে এসে কলা ও কেক খান। এ সময় তার মোবাইলে একটি ফোন আসে। ফোনে কথা বলেই তিনি পাশের পানের দোকানের দিকে চলে যান।

পানের দোকানি গকুল বিশ্বাস জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা থেকে সাতটার মধ্যে নির্মল তার দোকানে এসে পান খান। পরে দোকানের সামনে থেকে একটি অটোরিকশায় করে পশ্চিম দিকে মাহমুদকাঠি-স্বরূপকাঠি সড়কের দিকে চলে যান। পরদিন সকালে তার মৃত্যুর খবর শুনতে পান তিনি।

নেছারাবাদ থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহতের গলায় চাপের দাগ এবং শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।

নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, “লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে তার ছেলে বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অতি দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে হত্যার প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করে আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে।” 

দে/নে/অই

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.