শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময় এক ইউপি চেয়ারম্যানের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে উপজেলার মধ্য সিড্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত আন্তঃ ইউনিয়ন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৩৬ নম্বর মধ্য সিড্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিথিদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সিড্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ আব্দুল হাদি জিল্লু। জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময় ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি জসিম ব্যাপারী ও তার অনুসারীরা সেখানে গিয়ে চেয়ারম্যানের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠে।
হামলার সময় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। আকস্মিক এ ঘটনায় অনুষ্ঠানস্থলে আতঙ্ক ও হট্টগোল সৃষ্টি হয়। পরে আহত চেয়ারম্যান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে ক্রীড়া অনুষ্ঠান পুনরায় শুরু হয়।
স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়ের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চেয়ারম্যান জিল্লুর সঙ্গে জসিম ব্যাপারীর বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই হামলার ঘটনা ঘটে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, চেয়ারম্যান জাতীয় পতাকা উত্তোলন করছিলেন। এসময় জসিম ব্যাপারী হাতে লাঠি নিয়ে এগিয়ে এসে তাকে আঘাতের চেষ্টা করেন। চেয়ারম্যান আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে আশপাশের লোকজন পরিস্থিতি সামাল দেন।
চেয়ারম্যান সৈয়দ আব্দুল হাদি জিল্লু বলেন, “বিদ্যালয়ের জমি নিয়ে একটি সালিশে আমি উপস্থিত ছিলাম। সেই থেকেই জসিম ব্যাপারী ক্ষুব্ধ ছিল। আন্তঃইউনিয়ন ক্রীড়া অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময় পরিকল্পিতভাবে আমার ওপর হামলা চালানো হয়। আমি চিকিৎসা নিয়েছি, সুস্থ হয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেব।”
অভিযুক্ত জসিম ব্যাপারী বলেন, “স্কুলের জমি আমাদের পূর্বপুরুষের। আমি বিএনপির রাজনীতি করি। অতীতে চেয়ারম্যান আমাদের অনেক ক্ষতি করেছে। এজন্য আমি লাঠি নিয়ে গিয়েছিলাম, তবে কাউকে মারতে পারিনি।”
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “খেলা পরিচালনার সময় চেয়ারম্যান ও জসিম ব্যাপারীর মধ্যে হাতাহাতি ও লাঠিপেটার ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে অনুষ্ঠান পুনরায় চালুর ব্যবস্থা করা হয়। এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









