ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ অংশের ঢাকা-চট্রগ্রাম ও সিলেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে সম্ভাব্য যানজট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। বিশেষ করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ে (ঢাকা বাইপাস) জুড়ে চলমান সংস্কার কাজ এবারের ঈদযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কয়েকটি স্পটেও যানজটের ঝুঁকি রয়েছে।
সরেজমিনে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাঁচপুর, তারাব, বরাব, যাত্রামুড়া ও ভুলতা এলাকায় গর্ত ও পানি জমে থাকায় যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করতে দেখা গেছে।
রূপগঞ্জের দিঘীবরাব এলাকার গৃহিনী মোসাম্মৎ সাথী বলেন, “প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু যানজটের কারণে বাস আসতে পারছে না। এই যানজট আজকের না।”
একই সড়কে সুতাবোঝাই পিকআপ নিয়ে আটকে থাকা ব্যবসায়ী মনির হোসেন বলেন, “যানজটের কারণে অল্প পথ যেতে অনেক বেশি সময় লাগে। আধ ঘন্টার পথ কখনো তিন ঘন্টাও লাগে। ঈদ আসলে পরিবহনের চাপ বাড়ে, তখন তো ভোগান্তিও বাড়ে।”
অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জের মদনপুর থেকে কাঞ্চন পর্যন্ত এশিয়ান হাইওয়েতে ভাঙ্গাচোরা সড়ক ও চলমান সংস্কার কাজের কারণে যানজট দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। এ সড়কের মদনপুর, নয়াপাড়া, বস্তুল এলাকায় ভাঙাচোরা সড়কে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনাও ঘটছে বলে জানান স্থানীয়রা। সবচেয়ে বেশি করুণ দশা কাঞ্চন ব্রিজের নিচের অংশের সড়কে।
পিকআপ চালক মোশারফ জানান, ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতে হয়, রাস্তার কাজ খুব ধীরগতির। প্রায় সময় গর্তে পড়ে গাড়ি উল্টে যায়।
সিএনজি চালক ইব্রাহিম হোসেনের ভাষায়, “চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে বাইশ ঘণ্টাই এখানে জ্যাম থাকে, ঈদের সময় সমস্যা আরও বাড়বে।”
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বড় ধরনের ভাঙ্গন না থাকলেও টোলপ্লাজা ও দুর্ঘটনার কারণে হঠাৎ দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে।
বাঁধন পরিবহনের কন্ডাক্টর মঞ্জুর হোসেন বলেন, “টোল দিতে দেরি হলেই জ্যাম লেগে যায়, দুর্ঘটনা হলে তো কথাই নেই।” গত শুক্রবার ও রবিবার এ মহাসড়কে ১৭ কিলোমিটর যানজটে পড়ে থাকতে হয় বলেও অভিজ্ঞতার কথা জানান এ পরিবহন শ্রমিক।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সোহেল রানা বলেন, “তিনটি মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে সমস্যা রয়েছে। কনসার্ন অথরিটিকে এই বিষয়ে বলা হয়েছে। তারা ব্যবস্থা নিচ্ছেন। ঈদের আগে এসব স্থানে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আশা করি, ঈদযাত্রায় ভোগান্তি কমাতে পারবো।”
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, “ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে। সড়কের সংস্কার দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।”
সংশ্লিষ্টদের আশা, সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে এবারের ঈদযাত্রায় ভোগান্তি কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









