বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

বিস্ফোরক সংকটে মধ্যপাড়া খনিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ

প্রকাশিত: ২০ মে ২০২৬, ১০:৩৯ এএম

আপডেট: ২০ মে ২০২৬, ১০:৩৯ এএম

বিস্ফোরক সংকটে মধ্যপাড়া খনিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ

বিস্ফোরক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের তীব্র সংকটে আবারও বন্ধ হয়ে গেছে দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ কঠিন শিলা খনি মধ্যপাড়ার পাথর উৎপাদন। খনির ভূগর্ভে পাথর কাটার কাজে ব্যবহৃত এই বিস্ফোরক শেষ হয়ে যাওয়ায় গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল থেকে খনির উৎপাদন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম’ (জিটিসি) উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়।

খনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে আমদানিকৃত বিস্ফোরক আসতে বিলম্ব হচ্ছে। আগামী জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে থাইল্যান্ড থেকে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের নতুন চালান দেশে পৌঁছানোর পর পুনরায় খনির উৎপাদন শুরু হতে পারে। তবে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও এই সময়ে খনির ভেতরের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চালু রাখবে জিটিসি।

মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (এমজিএমসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী ডি.এম. জোবায়েদ হোসেন এবং মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সৈয়দ রফিজুল ইসলাম পাথর উৎপাদন বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

খনি সূত্রে জানা যায়, মধ্যপাড়া খনিতে পাথর উত্তোলনের জন্য ভূগর্ভে বিস্ফোরণ ঘটাতে বছরে প্রায় ৫ থেকে ৬ কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক প্রয়োজন হয়, যার পুরোটাই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। সরকারি বিভিন্ন আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিস্ফোরক আমদানিতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। এর আগে বিস্ফোরক সংকটের কারণে ২০১৪ সালে ২২ দিন, ২০১৫ সালে দুই মাস এবং ২০১৮ সালে সাত দিন খনির পাথর উৎপাদন বন্ধ ছিল।

পরবর্তীতে উৎপাদন সচল রাখতে উৎপাদন ঠিকাদার জিটিসি-কে বিস্ফোরক আমদানির দায়িত্ব দেওয়া হয়। জিটিসি ২০২৪ সাল পর্যন্ত সফলভাবে এই দায়িত্ব পালন করে এবং ওই সময়ে একদিনের জন্যও বিস্ফোরকের অভাবে খনির কাজ বন্ধ হয়নি। কিন্তু গত বছর থেকে খনি কর্তৃপক্ষ সরাসরি বিস্ফোরক আমদানি শুরু করার পর থেকেই সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিতকরণে জটিলতা দেখা দেয়। ফলে গত মাত্র নয় মাসের ব্যবধানে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো খনির উৎপাদন বন্ধ হলো।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ২৫ মে মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে যায়। ২০১৪ সাল থেকে বেলারুশের জেএসসি ট্রেস্ট সকটোস্ট্রয় এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া করপোরেশন লিমিটেডের সমন্বয়ে গঠিত জিটিসি খনির উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করছে। বর্তমানে প্রায় ৭০০ জন দক্ষ খনি শ্রমিক ও ইউরোপীয় প্রকৌশলীদের নিরলস পরিশ্রমে দৈনিক প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার টন পাথর উত্তোলন করা হচ্ছিল।

অর্থনৈতিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে টানা পাঁচ অর্থবছরে খনিটি প্রায় ১০০ কোটি টাকা লাভ করে এবং পেট্রোবাংলাকে ৪০ কোটি টাকা লভ্যাংশ পরিশোধ করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ঠিকাদারি বিল পরিশোধে ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেছে। ফলে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩৭ কোটি টাকা এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে খনিটিকে। চলতি অর্থবছরেও খনিটি লোকসানের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকলে খনির লোকসানের পাল্লা আরও ভারী হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জ/পা/কাও

Advertisement
এদিনের সব

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.