বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

ধানের বাজারে ধস, রাজশাহীর চাষিদের মাথায় হাত

প্রকাশিত: ২০ মে ২০২৬, ০২:২১ পিএম

আপডেট: ২০ মে ২০২৬, ০২:২১ পিএম

ধানের বাজারে ধস, রাজশাহীর চাষিদের মাথায় হাত

মাঠজুড়ে সোনালী ধানের সমারোহ। কয়েক মাসের কঠোর পরিশ্রম শেষে ঘরে উঠছে নতুন বোরো ধান। কিন্তু সেই ধান হাটে বিক্রি করতে এসে চরম হতাশায় পড়েছেন রাজশাহীর কৃষকেরা। উৎপাদন খরচ কয়েকগুণ বেড়ে গেলেও বাজারে ধানের দাম না বাড়ায় বড় ধরণের লোকসানের শঙ্কায় দিন কাটছে তাদের।

কৃষকদের অভিযোগ— সার, বীজ, সেচ, শ্রমিক ও পরিবহন খরচ কয়েকগুণ বাড়লেও সেই অনুপাতে ধানের দাম বাড়েনি। ফলে মৌসুম শেষে লাভ তো দূরের কথা, অনেকেই উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন। বাধ্য হয়ে ঋণ শোধ ও সংসার চালাতে কম দামেই ধান বিক্রি করে দিচ্ছেন তারা।

সরেজমিনে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার হাট গাঙ্গোপাড়া এবং মোহনপুর উপজেলার কেশরহাটে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিমণ জিরা ধান ১৩২০ থেকে ১৩৬০ টাকা, ব্রি-২৮ ১১ থেকে ১১৫০ টাকা, ব্রি-৭৫ ১০৫০ থেকে ১১০০ টাকা এবং কাটারি ধান ১২৫০ থেকে ১৩১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ কৃষকদের দাবি, চলতি বছর সার-কীটনাশকের চড়া দাম ও তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে সেচ খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রকারভেদে এক মণ ধান উৎপাদনে খরচ হয়েছে ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা। ফলে প্রতি মণে কৃষকদের বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হচ্ছে।

গাঙ্গোপাড়া হাটে ধান বিক্রি করতে আসা চাষি আব্দুল হান্নান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শ্রমিকের মজুরি, সারের দাম, ডিজেলের খরচ— সব বেড়েছে। কিন্তু ধানের দাম বাড়েনি। ধান বিক্রি করে এখন লাভ তো দূরের কথা, ঋণই শোধ করতে পারছি না।” কেশরহাটের কৃষক নুর ইসলাম বলেন, “ধানের বাজারে কৃষকের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। যখন আমাদের ঘরে ধান ওঠে তখন দাম কমে যায়। কয়েক মাস পর ব্যবসায়ীরা সেই ধান বেশি দামে বিক্রি করে। লাভটা সবসময় মধ্যস্বত্বভোগীরাই লুটে নেয়।”

এদিকে সাইফুল ইসলাম নামের এক ধানের আড়তদার অবশ্য আশার বাণী শুনিয়ে বলেন, “এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় ধানের মান চমৎকার। হাটে কেবল ধান ওঠা শুরু হয়েছে, আশা করছি আগামী সপ্তাহ থেকে ধানের দাম কিছুটা বাড়তে পারে।”

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, সরকারি খাদ্যগুদামে ধান কেনা হলেও প্রশাসনিক জটিলতা, লেবার ও পরিবহন খরচ এবং দালালদের দৌরাত্ম্যের কারণে সাধারণ কৃষকেরা সেখানে যেতে পারেন না। ফলে সরকারি ধান সংগ্রহের সুবিধা তাদের কপালে জোটে না। তাছাড়া চলতি মৌসুমে আলু চাষে ব্যাপক লোকসানের পর ধানেও ক্ষতির মুখে পড়ায় চরম সংকটে পড়েছেন এই অঞ্চলের চাষিরা।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ৬৮ হাজার৩০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। কৃষি বিভাগ এবার জেলায় মোট ৩ লাখ ২৭ হাজার ৫৪৪ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ইতিমধ্যে জেলার মোট আবাদের প্রায় ৫৭ শতাংশ ধান কাটা ও মাড়াই সম্পন্ন হয়েছে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (পিপি) ড. মোঃ আব্দুল মজিদ বলেন, “এবার ঝড় এবং শিলাবৃষ্টি না হওয়ায় ধানের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। তবে এটা সত্যি যে উৎপাদন খরচ কিছুটা বেড়েছে। বাজারে দাম কম থাকায় কৃষকেরা হতাশ। সরকারিভাবে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম আরও জোরদার করা গেলে চাষিরা কিছুটা লাভবান হতে পারতেন।”

জ/রা/কাও

Advertisement
এদিনের সব

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.