পটুয়াখালীর বাউফলে পানি নিষ্কাশনের জন্য পাইপ বসানোর খরচের টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে রবিন হাওলাদার (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত ও উভয় পক্ষের অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
বুধবার (৩ জুন) সকালে উপজেলার কালাইয়া লঞ্চঘাটের পূর্ব পাশে হাওলাদার বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রবিন হাওলাদারের পরিবারের আহত সদস্যরা হলেন- তার বড় ছেলে হৃদয় হাওলাদার (২২), স্ত্রী ঠাকুর রানী হাওলাদার (৪৫) এবং ছেলে রনি হাওলাদার (২০)। অপর পক্ষের আহতরা হলেন- আনন্দ ব্যাপারী (৫৫), কুসুম রানী (৪৫), প্রদীপ ব্যাপারী (২৭) ও রতন ব্যাপারী (২৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি পাইপ স্থাপনের উদ্যোগ নেন রবিন হাওলাদার। এ জন্য তিনি প্রতিবেশীদের কাছে অর্থ সহযোগিতা চান। তবে রতন ব্যাপারী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মঙ্গলবার (২ জুন) দুই পরিবারের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এর জের ধরে বুধবার সকালে রবিন পুকুর পাড়ে দাঁত ব্রাশ করতে গেলে রতন ব্যাপারীর সঙ্গে পুনরায় কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, রতন ব্যাপারীর নেতৃত্বে কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে রবিন হাওলাদার গুরুতর আহত হন।
পরে তাকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অপরদিকে গুরুতর আহত হৃদয় হাওলাদার, ঠাকুর রানী হাওলাদার ও রনি হাওলাদারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, সংঘর্ষে উভয় পক্ষের মোট ৭ জন আহত হয়েছেন। রবিন হাওলাদারকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
বাউফল থানার (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আনন্দ ব্যাপারী ও তার দুই ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









