নীলফামারীর সৈয়দপুরে পূর্বঘোষিত নোটিশের পর বাংলাদেশ রেলওয়ের জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে শহরের গোলাহাট এলাকা থেকে ওই অভিযান শুরু করে রেল কর্তৃপক্ষ।
দৈনিক এদিন পত্রিকায় গত ৩০ এপ্রিল ‘রেলওয়ের বিশাল জলাশয় ভরাট করে প্লট বিক্রি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। এরপর ধারাবাহিকভাবে দেশের বিভিন্ন প্রথমসারির পত্রিকায় এই নিউজটি আসে। যার ফলে পরবর্তীতে ২০ মে রেলওয়ের ভূসম্পত্তি কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে অবৈধ দখলদারদের উদ্দেশে উচ্ছেদ নোটিশ জারি করা হয়।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সৈয়দপুর স্টেশন এলাকা ও আশপাশের রেলভূমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট, বাড়িঘর ও অন্যান্য স্থাপনা ৮ ও ৯ জুন উচ্ছেদ করা হবে। নোটিশে স্বাক্ষর করেন পাকশী বিভাগের বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা (ডিইও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শফিকুল ইসলাম। তিনিই উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
অভিযানস্থলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘‘সৈয়দপুরে বিপুল পরিমাণ রেলভূমি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে রয়েছে। এসব জমি পর্যায়ক্রমে দখলমুক্ত করা হবে। আপাতত দুই দিনব্যাপী এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হবে।’’
সৈয়দপুর পূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (এইএন) তহিদুল ইসলাম জানান, সকাল থেকেই অভিযান শুরু করার প্রস্তুতি থাকলেও প্রয়োজনীয় উচ্ছেদ সরঞ্জাম ও এস্কেভেটর পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ায় দুপুরে কার্যক্রম শুরু করা হয়।
তিনি বলেন, ‘‘গোলাহাট পানির ট্যাংক সংলগ্ন এলাকায় রেলের জলাধার ভরাট করে নির্মিত প্রায় ১০টি পাকা স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শহরের অন্যান্য এলাকাতেও পর্যায়ক্রমে অভিযান পরিচালনা করা হবে।’’
উচ্ছেদ অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন ও ১ নম্বর রেলঘুন্টি এলাকার অনেক অবৈধ দখলদার এলাকা ছেড়ে চলে যান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অভিযানে সৈয়দপুর রেলওয়ে জেলা পুলিশ, রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি), নীলফামারী জেলা পুলিশসহ রেলের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
এ সময় রেলের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (আইওডব্লিউ) শরিফুল ইসলাম, কানুনগো মহসিন আলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









