রাজশাহীতে হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া কমানোর দাবিতে হিমাগার থেকে আলু বেচাকেনা বন্ধ রেখেছেন আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা। ভাড়া পুনর্নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা হিমাগার থেকে আলু বের করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। কর্মসূচির প্রথম দিনে জেলার বিভিন্ন হিমাগারে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। চাষি ও ব্যবসায়ীদের দাবি, হিমাগারের প্রকৃত খরচ বিবেচনায় নিয়ে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করা হোক। এই ভাড়া না কমালে তাঁদের উৎপাদন ও সংরক্ষণ খরচ আরও বেড়ে যাবে। এতে আলুচাষি, ব্যবসায়ী এবং শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। অন্যদিকে হিমাগার মালিকদের দাবি, বিদ্যুৎ, শ্রমিক ও পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে রাজশাহীর পবা উপজেলার সরকার কোল্ড স্টোরেজে গিয়ে দেখা যায়, হিমাগার থেকে আলু বের করার কোনো কার্যক্রম নেই। একই অবস্থা দেখা যায় পাশের উত্তরা কোল্ড স্টোরেজেও। অথচ স্বাভাবিক সময়ে এসব হিমাগারের সামনে আলু কেনাবেচা, লোড-আনলোড ও পরিবহনের ব্যস্ততা থাকে। কিন্তু আন্দোলনের কারণে সকাল থেকে হিমাগারগুলোর সামনে ছিল স্থবির পরিবেশ। আলুচাষিদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি আগের দিন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই কর্মসূচি ঘোষণা করে। সংগঠনটির নেতারা জানান, হিমাগারের ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় চাষি ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আলু বেচাকেনা বন্ধ রাখবেন।
এবিষয়ে রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আহাদ আলী শাহ বলেন, এক বস্তা আলু হিমাগারে রাখতে মালিকপক্ষের সর্বোচ্চ খরচ হয় ১০০ টাকা। কিন্তু চাষি ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৪৭৫ টাকা। এটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
তিনি আরও বলেন, “এর আগে হিমাগার ভাড়া অযৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছিল। তখন দেশের পরিস্থিতির কারণে সুশীল সমাজ, আর্মি ও রাজনৈতিক নেতারা আমাদের শান্ত থাকার অনুরোধ করেছিলেন। বলা হয়েছিল, রাজনৈতিক সরকার এলে বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো কোনো সুরাহা হয়নি।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









