দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফিল্মের অভাবে তিন সপ্তাহ ধরে এক্সরে সেবা বন্ধ রয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন চিকিৎসা নিতে আসা মানুষ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থ বছরে এই হাসপাতালে সরকারিভাবে ৬শ’ এক্সরে ফিল্ম বরাদ্দ মিলেছে। বিরামপুর উপজেলাটি পার্শ্ববর্তী নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর ও ফুলবাড়ি উপজেলার মধ্যবর্তী হওয়ায় ওই সকল উপজেলার রোগীও বিরামপুর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন।
রোগী বৃদ্ধির কারণে কয়েক মাসের মধ্যেই সরকারি বরাদ্দকৃত ফিল্ম শেষ হয়ে যায়। পরবর্তীতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজস্ব অর্থায়নে ও বিভিন্ন উৎস থেকে আরও ৭শ’ এক্সরে ফিল্ম সংগ্রহ করেন। কিন্তু সেই ফিল্ম গুলোও গত ফেব্রুয়ারি মাসে শেষ হয়ে যায়। রোগীদের সেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উদ্যোগে আরও ২শ’ ফিল্ম সংগ্রহ করা হয়।
প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ টি এক্সরে করার ফলে অল্প দিনের মধ্যে সেই ফিল্মও শেষ হয়ে গেছে। এ কারণে গত তিন সপ্তাহ ধরে এই হাসপাতালে ফিল্মের অভাবে এক্সরে সেবা বন্ধ রয়েছে। হাসপাতালে প্রতিটি এক্সরে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় করা সম্ভব হলেও বেসরকারি পর্যায়ে সেই এক্সরে ৭-৮শ’ টাকা হারে দিতে হয়। বিরামপুর হাসপাতালে তিন সপ্তাহ ধরে এক্সরে বন্ধ থাকার কারণে গরীব ও অসচ্ছল রোগীরা বিপাকে পড়েছেন এবং নিরুপায় অনেক রোগী বেশি টাকা দিয়ে বাইরে থেকে এক্সরে করাতে গিয়ে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
পৌর এলাকার কৃষ্টচাঁদপুর গ্রামের অছিমুদ্দিন বলেন, ‘‘তার চিকিৎসার জন্য ডাক্তার এক্সরে প্রেসক্রিপশন লিখে দিয়েছেন। কিন্তু হাসপাতালে এক্সরে বন্ধ থাকায় তিনি বিপাকে পড়েছেন। তিনি দরিদ্র কৃষক হওয়ায় বাইরে থেকে এক্সরে করাতে পারছেন না। ফলে এক্সরের অভাবে তার চিকিৎসা থমকে দাঁড়িয়েছে।’’
বিরামপুর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. শাহরিয়ার পারভেজ বলেন, ‘‘বিরামপুর ও পার্শ্ববর্তী উপজেলার রোগীর চাপে এখানে তিন সপ্তাহ আগে ফিল্ম শেষ হয়ে যাওয়ায় এক্সরে সেবা বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তবে ফিল্ম না আসা পর্যন্ত রোগীদের এক্সরে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে না।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









