মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. শওকতুল ইসলাম শকু বলেছেন, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। কৃষকরাই আমাদের খাদ্যের যোগান দেন। তাই তারাই সমাজের সবচেয়ে সম্মানিত নাগরিক। কৃষকদের সম্মান করতে হবে। কৃষকদের সম্মান করলে দেশ উন্নয়নের দিকে আরও এগিয়ে যাবে।”
শনিবার (১৩ জুন) সকালে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘পার্টনার কংগ্রেস’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, অনেক সময় কৃষকরা সাধারণ পোশাকে চলাফেরা করলে অনেকেই তাদের যথাযথ সম্মান করেন না, বরং অবহেলার চোখে দেখেন। অথচ কৃষকরাই দেশের খাদ্য নিরাপত্তার মূল ভিত্তি। তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্যই আমাদের জীবনধারণের প্রধান অবলম্বন।
সংসদ সদস্য আরও বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি দল দেশের মানুষের কাছে নানা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু জনগণ সেই প্রলোভন প্রত্যাখ্যান করেছে। কথার সঙ্গে কাজের মিল থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছেন। সরকার গঠনের পর কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড এবং নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে। তার নেতৃত্বে দেশে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ একদিন মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো উন্নত দেশে পরিণত হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তারের সভাপতিত্বে এবং কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. রুবেল রানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মৌলভীবাজারের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন, ভুকশিমইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনির, উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল বারী সোহেল এবং পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম রাজু।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল, সাবেক সহ-সভাপতি আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঈনুল হক বকুল, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি সোয়েব আহমদ চৌধুরীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কৃষকের দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পার্টনার প্রকল্পের আওতায় ফিল্ড স্কুল, উত্তম কৃষি চর্চা, আধুনিক সেচ প্রযুক্তি, মানসম্মত তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং ফার্মার্স সার্ভিস সেন্টার চালু করা হয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, এ ধরনের কংগ্রেস কৃষকদের অভিজ্ঞতা বিনিময়, বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং উদ্ভাবনী কৃষি চর্চার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। এতে ফসলের বহুমুখীকরণ, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, কৃষি উদ্যোক্তা সৃষ্টি, কৃষিপণ্যের টেকসই ভ্যালু চেইন গঠন, অধিক ফলনশীল প্রযুক্তির ব্যবহার, পুষ্টিসমৃদ্ধ ফল ও সবজি উৎপাদন এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় কৃষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









