কুষ্টিয়ার পৌর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রবণতা। গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে চাল, ভোজ্যতেল, ডিম ও বেশ কয়েক ধরনের মাছের দাম কমে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও গরু ও খাসির মাংস, ব্রয়লার মুরগি এবং কাঁচামরিচের দাম বেড়ে নতুন করে চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে কুষ্টিয়া পৌর বাজার ঘুরে দেখা যায়, কাঁচাবাজারে ক্রেতাদের ভিড় স্বাভাবিক থাকলেও মাংসের দোকানগুলোতে তুলনামূলক ভিড় কম। মাছের বাজারেও মাঝারি ধরনের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
সবজির বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। পটল ৩০ টাকা, করল্লা ৩০ থেকে ৪০ টাকা, কচু ৬০ টাকা, রসুন ১১০ টাকা এবং পেঁয়াজ ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া বেগুন এখন ৬০ টাকায় নেমে এসেছে। তবে কাঁচামরিচের দাম ৬০ টাকা থেকে বেড়ে কেজিপ্রতি ৮০ টাকায় পৌঁছেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উৎপাদন, সরবরাহ ও আমদানির ওপর নির্ভর করেই পণ্যের দাম ওঠানামা করছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, এসব কারণ দেখিয়ে অনেক সময় অযৌক্তিকভাবেও দাম বাড়ানো হয়।
চালের বাজারে তুলনামূলক স্বস্তি ফিরেছে। মিনিকেট চাল ৭০ থেকে ৭৫ টাকা, বাসমতি চাল ৮৫ টাকা, কাজললতা চাল ৬৫ টাকা এবং মোটা আঠাশ চাল ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, গত সপ্তাহের তুলনায় প্রতিকেজি চালে ৮ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে।
চাঁদ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ফজলুল হক চাঁদ বলেন, “চালের দাম কেজিপ্রতি ৮ থেকে ১০ টাকা কমেছে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগে অনেক এলাকায় ধানের ক্ষতি হওয়ায় চালের বাজার পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। উৎপাদন পরিস্থিতির ওপরই ভবিষ্যৎ বাজার নির্ভর করবে।”
ভোজ্যতেলের বাজারেও কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ২০০ টাকা এবং সরিষার তেল ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কম।
অন্যদিকে মাংসের বাজারে উল্টো চিত্র। গরুর মাংস ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির দামও ১৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১৮০ টাকায় উঠেছে। তবে সোনালি মুরগির দাম ৩০০ টাকা থেকে কমে ২৮০ টাকা এবং লেয়ার মুরগির দাম ৪০০ টাকা থেকে কমে ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাংস বিক্রেতা আশরাফ আলী বলেন, “বাজারে গরুর দাম বেড়েছে। সেই প্রভাব মাংসের বাজারেও পড়েছে।”
খাসির মাংস বিক্রেতা রাজিব হোসেন বলেন, “সরবরাহ কম থাকায় খাসির মাংসের দাম কিছুটা বেড়েছে।”
মুরগি বিক্রেতা শামীম আলী জানান, “ব্রয়লারের চাহিদা বেশি থাকায় দাম বেড়েছে। তবে সোনালি ও লেয়ার মুরগির দাম কিছুটা কমেছে।”
মাছের বাজারে রুই মাছ কেজিপ্রতি ৩৬০ টাকা, কাতলা ৩৪০ টাকা, ছোট মাছ ৫২০ টাকা এবং ইলিশ ১ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহের তুলনায় এসব মাছের দাম কিছুটা কমেছে। একইভাবে প্রতি খাচি ডিম ৩০০ টাকা থেকে কমে ২৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছ বিক্রেতা আব্বাস মণ্ডল বলেন, “নদী ও বিভিন্ন এলাকা থেকে মাছের সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় কয়েক ধরনের মাছের দাম কমেছে।”
কাঁচাবাজারে কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, “কিছু জিনিসের দাম কমেছে ঠিকই, কিন্তু যেগুলো বেশি প্রয়োজন সেগুলোর দাম আবার বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা প্রায়ই আমদানির অজুহাত দেন। সাধারণ মানুষের এসব নিয়ে কিছু বলার সুযোগ নেই।”
সবজি ব্যবসায়ী জিয়ারুল বলেন, “সবজির দাম মূলত উৎপাদন, আবহাওয়া ও আমদানির ওপর নির্ভর করে। তাই বাজারে প্রতিদিনই কিছু না কিছু পরিবর্তন হয়।”
মাংস কিনতে আসা রফিকুল আলম বলেন, “এক সপ্তাহের ব্যবধানে গরু ও খাসির মাংসের দাম অনেক বেড়েছে। মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য এটি বড় চাপ। বাজারে নিয়মিত নজরদারি দরকার।”
মাছের ক্রেতা রুহুল আমিন বলেন, “মাছে-ভাতে বাঙালি’ এখন শুধু প্রবাদই মনে হয়। বর্তমান দামে সাধারণ মানুষের পক্ষে নিয়মিত মাছ কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে।”
ব্যবসায়ীদের একটি অংশের দাবি, আমদানি ও সরবরাহ ব্যয়ের কারণে বাজারে পণ্যের দাম ওঠানামা করছে। তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে একই অজুহাতে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি দাম আদায় করা হয়। ফলে বাজারে কার্যকর তদারকি ও নিয়মিত মনিটরিংয়ের দাবি জোরালো হচ্ছে।
বাজার তদারকির বিষয়ে জানতে কুষ্টিয়া জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মাসুম আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, মজুতদারি রোধ এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা গেলে নিত্যপণ্যের দামে আরও স্থিতিশীলতা আসতে পারে। অন্যথায় সামনের সপ্তাহগুলোতেও বাজারে মূল্য অস্থিরতা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









