ভোরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করেই প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানাতে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে এবং ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে জড়ো হন স্থানীয় নেতাকর্মী এবং সমর্থকেরা। পদ্মাসেতু পেরিয়ে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর মাদারীপুর জেলার শিবচরে প্রবেশ করলে স্লোগানে মুখর হয়ে উঠে এক্সপ্রেসওয়ে। নেতাকর্মীদের দেখে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর হাত নাড়া দেখে উচ্ছ্বাসিত হয়ে উঠেন নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে, ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের দুই পাশে জড়ো হন বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী, সমর্থক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। হাতে ফুল, জাতীয় ও দলীয় পতাকা নিয়ে তারা অপেক্ষা করেন প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার এবং শুভেচ্ছা জানানোর জন্য।
আকাশজুড়ে কালো মেঘ আর থেমে থেমে বৃষ্টি—কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি, কখনো অঝোর ধারায়। কিন্তু বৈরী আবহাওয়া নেতাকর্মীদের উৎসাহে কোনো ভাটা ফেলতে পারেনি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা মহাসড়কের পাশে অবস্থান করে তারা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর অপেক্ষায় থাকেন।
সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িবহর মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি সীমান্ত এলাকা দিয়ে জেলায় প্রবেশ করলে মুহূর্তেই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। পাঁচ্চর, বন্দরখোলা, সন্ন্যাসীরচর, দত্তপাড়া ও সূর্যনগর এলাকা অতিক্রমের সময় লাল-সবুজের পতাকাবাহী গাড়িবহরে ফুল ছিটিয়ে শুভেচ্ছা জানান নেতাকর্মীরা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী গাড়ি থেকে হাত নেড়ে উপস্থিত জনতার শুভেচ্ছার জবাব দেন। তার সেই অভিবাদনে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো মানুষ।
শুধু শিবচরেই নয়, জেলার বিভিন্ন স্থানেও ছিল একই চিত্র। রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট, সদর উপজেলার মোস্তফাপুর এবং কালকিনি উপজেলার ভুরঘাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যানার-ফেস্টুন, জাতীয় ও দলীয় পতাকা নিয়ে নেতাকর্মীরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। পুরো জেলায় ছিল উৎসবের আবহ। এছাড়া ফরিদপুরের ভাঙ্গা গোলচত্বরসহ পুরো সড়কে ছিল স্থানীয় নেতাকর্মীদের ঢল।
প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে উপজেলা বিএনপি, ছাত্রদল, মহিলাদল, কৃষকদলসহ অঙ্গ সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মী উপস্থিল ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে রাত থেকেই শিবচরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ছিল উৎসবের আমেজ।
শিবচর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ তুরাগ খান বলেন, ‘‘আমরা উপজেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ভোরে মহাসড়কে ছুটে আসি। আমাদের ছাত্রনেতা-কর্মীদের মধ্যে অন্যরকম এক আনন্দ বিরাজ করছে। তবে শত শত সাধারণ মানুষও আজ প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে মহাসড়কে জড়ো হন। এটা আমাদের জন্য গৌরবের বিষয়।’’
শিবচর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্ষীয়ান নেতা আবু জাফর চৌধুরী বলেন, ‘‘শিবচরের এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে প্রধানমন্ত্রী বরিশাল গেলেন। প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে মহাসড়কে ভোরের আলো ফুটতেই নেতাকর্মীদের ঢল নামে। শুধু নেতাকর্মী নয়, সাধারণ মানুষও সড়কে অবস্থান নেন। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে অভিবাদন জানিয়েছেন। নেতাকর্মীদের মধ্যে বেশ প্রাণচাঞ্চল্য ছিল।’’
শিবচর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব মো.সোহেল রানা বলেন, ‘‘আমাদের নেতাকর্মীরা আবেগপ্রবণ হয়ে মহাসড়কে এসেছেন। আমরা প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে অভিবাদন জানিয়েছেন। মহাসড়কের দুইপাশে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয় প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









