নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, “জনগণের সহযোগিতা ছাড়া একটি অপরাধমুক্ত সমাজ গড়া সম্ভব নয়। তাই অপরাধমুক্ত নারায়ণগঞ্জ গড়তে জেলার সকল জনগণের সহযোগিতা কামনা করছি। আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রেখে নারায়ণগঞ্জকে একটি অপরাধমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ জেলা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ প্রশাসন। মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি, পেশাদারিত্ব এবং জনবান্ধব সেবার মাধ্যমে এই অর্জনকে এগিয়ে নিতে চাই।”
শনিবার (১৮ জুলাই) এক সাক্ষাৎকারে তিনি নারায়ণগঞ্জের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং পুলিশ সদস্যদের প্রতি তাঁর নির্দেশনার কথা তুলে ধরে এসব কথা বলেন।
নারায়ণগঞ্জবাসীকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ নারায়ণগঞ্জ গড়ার এই যাত্রায় পুলিশ প্রশাসন সর্বদা জনগণের পাশে আছে এবং থাকবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস আমরা অবশ্যই নারায়ণগঞ্জকে অপরাধমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ নারায়ণগঞ্জ গড়তে সক্ষম হব।
পুলিশ সুপার বলেন, “জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো ধরনের অরাজকতা বা কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে জন্য জেলা পুলিশ প্রশাসন বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছি।”
মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, “আমাদের মূল নীতি হলো অপরাধের প্রতি জিরো টলারেন্স’। আমি জেলার সকল পুলিশ কর্মকর্তাকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, দায়িত্ববোধ এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছি। ভয়, ভীতি বা কোনো প্রকার প্রলোভনের কাছে মাথানত করা যাবে না। তিনি বলেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সকল অপরাধের মূল উৎস হলো মাদক। মাদক থেকেই চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাসসহ অন্যান্য অপরাধের জন্ম হয়। তাই নারায়ণগঞ্জকে মাদকমুক্ত করতে আমরা বিশেষ অভিযান অব্যাহত রেখেছি। মাদক ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
পুলিশ সুপার আরো বলেন, “পুলিশের পবিত্র দায়িত্ব হলো জনগণের সেবা করা। সেবা নিতে আসা কোনো মানুষ যেন কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সকল পুলিশ সদস্যকে সর্বদা সজাগ থাকতে হবে। থানায় আগত প্রতিটি মানুষের সঙ্গে মানবিক আচরণ এবং দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে হবে। এটিই হবে জনগণ ও পুলিশের মধ্যে সেতুবন্ধন।”
তিনি আরো বলেন, “অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। এখন প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদের পুলিশ সদস্যদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক সরঞ্জামের ব্যবহারের ওপর আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি, যাতে অনলাইন প্রতারণা, হ্যাকিং ও অন্যান্য সাইবার অপরাধ দ্রুত শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।”
জেলা পুলিশের সকল কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে পুলিশ সুপার বলেন, “আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই আদর্শকে ধারণ করতে হবে। দেশসেবার এই মহান ব্রতে নিজেকে আত্মনিয়োগ করতে হবে। সততা, নিষ্ঠা এবং দেশপ্রেমের সঙ্গে কাজ করলে জনগণের ভালোবাসা এবং রাষ্ট্রের সম্মান দুটোই অর্জন করা সম্ভব।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









