আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, ‘‘আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসনের যেকোনো উদ্যোগ বর্তমান সরকারের জন্যই ক্ষতিকর পরিণতি ডেকে আনতে পারে।’’ একই সঙ্গে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিচার দ্রুত সম্পন্ন, শহীদ ও আহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ এবং দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে বরিশাল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ‘‘২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ওই আন্দোলনে অংশ নেওয়া মানুষ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভূমিকা রেখেছেন।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘বিদেশে অবস্থান করে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে দেশের মানুষকে আতঙ্কিত করা কিংবা রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করা সম্ভব নয়।’’
শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, ‘‘দেশে ফিরলে তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।’’
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে এবি পার্টির মহাসচিব অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য প্রচারে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা ছিল। তার দাবি, বিভিন্ন টেলিভিশন টক শো এবং গণমাধ্যমে বিরোধী মতামত প্রকাশের সুযোগ সীমিত ছিল। একই ধরনের পরিস্থিতি পুনরায় সৃষ্টি না করার আহ্বান জানান তিনি।
সরকারের প্রতি অভিযোগ তুলে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ‘‘দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পৃষ্ঠপোষকতায় আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে।’’ বরিশালেও আওয়ামী লীগের পরিচিত সন্ত্রাসীরা আবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে বলে তিনি দাবি করেন। এ বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘‘দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শহীদ ও আহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।’’ পাশাপাশি জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কর্মীদের কয়েক মাস ধরে বেতন না পাওয়ার বিষয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত এসব সমস্যা সমাধানের দাবি জানান।
বরিশাল বিভাগের উন্নয়ন প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ‘‘দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে কুয়াকাটা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করা জরুরি।’’
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘‘রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতায় যাওয়ার আগে নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও ক্ষমতায় যাওয়ার পর অনেক সময় সেসব বাস্তবায়নে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।’’ জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এছাড়া ১১দলীয় জোটের বিভিন্ন শরিক দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









