রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা খাদ্য গুদামের (এলএসডি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম খানের বিরুদ্ধে উৎকোচ দাবি, গালিগালাজ, কৃষককে লাঞ্ছিত করা এবং ধানের বিল আটকে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের বাগপুর বাগেরহাট এলাকার কৃষক মো. বকুল মিয়া।
এর আগে একই খাদ্য গুদামে সরকারি ধান সংগ্রহে অনিয়ম, কৃষকদের বঞ্চিত করে ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ এবং উৎকোচ বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগের তদন্ত চলমান অবস্থায় নতুন করে আরেক কৃষকের অভিযোগ সামনে এলো।
লিখিত অভিযোগে বকুল মিয়া বলেন, গত ১৪ ও ১৫ জুলাই সরকারি নিয়ম অনুসরণ করে তিনি গঙ্গাচড়া এলএসডি গুদামে তিন টন ধান সরবরাহ করেন। ধান সরবরাহের বিলের বিষয়ে জানতে ১৬ জুলাই গুদামে গেলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম খান তার কাছে প্রতি টনে তিন হাজার টাকা উৎকোচ দাবি করেন। অভিযোগে বলা হয়, উৎকোচ দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিল আটকে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এ সময় তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং গুদামের কয়েকজন শ্রমিকের মাধ্যমে অফিস কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়।
অভিযোগে বকুল মিয়া বলেন, আমি একজন সাধারণ কৃষক। সরকারি নিয়ম মেনে ধান দিয়েছি। অথচ বিল পাওয়ার জন্য আমার কাছে টাকা দাবি করা হয়েছে। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় আমাকে অপমান ও হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, চলতি মৌসুমের সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু থেকেই নানা অভিযোগে বিতর্কিত। এর আগে বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতার রহমানের দেওয়া অভিযোগে প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী ও চালকল মালিকের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ, প্রতি টনে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা উৎকোচ আদায় এবং একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়। ওই অভিযোগে চাল ব্যবসায়ী ফজলু মিয়া, জয়নাল আবেদীন ও নজরুল ইসলামের নামও উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়।
এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া এলএসডি গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম খানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এর আগে ধান সংগ্রহে অনিয়ম ও উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেছিলেন, সরকারি নিয়ম মেনেই সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, “অভিযোগটি পেয়েছি। তদন্তের জন্য পাঠানো হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”
সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রম ঘিরে ধারাবাহিক অভিযোগের ঘটনায় গঙ্গাচড়ার কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









