আর্জেন্টিনাকে ধরাশায়ী করে বিশ্বজয় করলো স্পেন। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে আধিপত্য বিস্তার করে ১-০ গোলে জয় নিশ্চিত করে দ্বিতীয়বারের মতো ফুটবলের সর্বোচ্চ শিরোপা নিজেদের করে নিল স্পেন।
খেলার শুরু থেকেই আর্জেন্টিনাকে যেন অদৃশ্য জালে আটকে একের পর এক আক্রমণ চালিয়েছে স্পেন। অসহায়ের মতো শুধু রক্ষণভাগ সামলাতেই হলো বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে।
বার বার দারুণ সব প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে ফাইনালে একেবারে হতাশা উপহার দিল আর্জেন্টিনা। প্রত্যাবর্তন দূরে থাক সামান্য আশাও জাগাতে ব্যর্থ হলো মেসিরা।
প্রথমার্ধেই একাধিকবার এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল স্পেন। লামিনে ইয়ামালের শট ঠেকিয়ে দেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। পরে তোরেসের হেডও দুর্দান্তভাবে রুখে দেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক। ফলে নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্যভাবেই শেষ হয়।
ইনজুরি সময়ের তৃতীয় মিনিটে উইলিয়ামসের একটি শক্তিশালী শট রুখে দেন আর্জেন্টিনা কিপার। এর কিছুক্ষণ পর কুবার্সিকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে আর্জেন্টিনাকে ১০ জনের দলে পরিণত করে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ।
তবে অতিরিক্ত সময়ে এসে আর রক্ষা হয়নি আর্জেন্টিনার। ম্যাচের ১০৬ মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের নিখুঁত হেড থেকে বাড়িয়ে দেওয়া বল আর্জেন্টাইনদের স্বপ্ন ভেঙে জালে ঢোকান ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস। সেই এক গোলই গড়ে দেয় শিরোপার ভাগ্য। গোল হজমের পর ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ আরও কঠিন হয়ে যায় আর্জেন্টিনার।
পরিসংখ্যানও স্পেনের আধিপত্যেরই গল্প বলেছে। ১৯৬৬ সালের পর এই প্রথম কোনো বিশ্বকাপ ম্যাচের প্রথমার্ধে একটি শটও নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা। শুধু তাই নয়, পুরো ৯০ মিনিটে তারা গোলমুখে কোনো শট রাখতে পারেনি এবং বলের দখলেও ছিল মাত্র ৩৪ শতাংশ—যা ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে তাদের সর্বনিম্ন।
সব মিলিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে কার্যত নিঃশ্বাস নেওয়ার সুযোগই দেয়নি স্পেন। জমাট রক্ষণ, নিয়ন্ত্রিত মাঝমাঠ আর ধারালো আক্রমণের সমন্বয়ে পুরো টুর্নামেন্টের মতো ফাইনালেও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে তারা।
এর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব অর্জন করল স্পেন। আর টানা দ্বিতীয় শিরোপার স্বপ্ন ভেঙে রানার্সআপ হয়েই বিশ্বকাপ শেষ করতে হলো সেলেসাওদের।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









