ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার আব্দুল্লাহপুর খাসেরহাট সংলগ্ন মোল্লা বাড়িতে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় সাবেক ইউপি মেম্বার ও স্থানীয় যুবলীগ নেতা আল আমিন ওরফে কাইল্লা আল আমিনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার ১২ দিন পর মামলা নিয়েছে পুলিশ।
তদন্তের নামে গড়িমসি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভিকটিমের পরিবার। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় এসআই সিদ্দিক ঘটনাস্থলে তদন্তে গেলেও মামলা রুজু হয়নি। পরবর্তীতে গত ১৭ জুলাই এসআই মনিরের পুনরায় তদন্ত শেষে ১৮ জুলাই বাদীর লিখিত অভিযোগ এজাহার হিসেবে নেন। মামলা নং ১৮(১৮)২৬। ধারা: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০।
অপরদিকে, আসামি বাদিকে প্রাণনাশসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি অব্যহত রেখেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভিক্টিম। ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অভিযোগ করে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাছে লিখিত অভিযোগ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জুন ফাঁকা পেয়ে গভীর রাতে ঘরে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টা চালিয়েছেন ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য আল আমিন ওরফে কাইল্ল্যা আলামিন। এ ঘটনায় গত ৫ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই নারী।
অভিযোগ সূত্রে আরো জানা যায়, আব্দুল্লাপুর ইউনিয়নের খাসেরহাট সংলগ্ন মোল্লা বাড়ির মহিউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরব প্রবাসী। ওই প্রবাসীর স্ত্রীকে দু'বছর ধরে ঘরের বাহিরে দেখলেই বিভিন্ন সময় ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য কাইল্ল্যা আল আমিন কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছেন। স্বামী বিদেশ অবস্থান করায় তিনি শাশুড়িসহ ঘরে থাকতেন। কাইল্ল্যা আল আমিন একই বাড়ির এবং সম্পর্কে তার দেবর। প্রায়শই মধ্যরাতে আল আমিন ওই নারীর নির্মাণাধীন ঘরের জানালার পাশে দাঁড়িয়ে কুপ্রস্তাব দেন ও দরজা খুলতে বলেন। লোকলজ্জার ভয়ে বিষয়টি কাউকে না জানালে আল আমিন আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। পথে-ঘাটে দেখা হলে ওই নারীকে উত্যক্ত করতেন। আল আমিনের লোলুপ দৃষ্টির কারনে এবং অতিষ্ঠ হয়ে এক পর্যায়ে ওই নারী তার বাবার বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন।
এদিকে, শাশুড়ির অসুস্থতার খবর শুনে শ্বশুর বাড়িতে আসেন ওই নারী। চিকিৎসার জন্য তার শাশুড়ি গত ১২ জুন ঢাকায় যান। এই সুযোগে একা পেয়ে ওই দিন রাত সাড়ে ১২ টার দিকে কাইল্ল্যা আল আমিন ওই ঘরে তার স্বামীর মোবাইল ফোন নাম্বার নেওয়ার অযুহাতে জোরপূর্বক ঢুকে পড়ে। এসময় ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ চেষ্টা চালান। তিনি চিৎকার করলে আল আমিন দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ওই নারী থানায় লিখিত অভিযোগ করার প্রস্তুতি নিলে আল আমিন লোকজন নিয়ে ঘটনা জানাজানি না করতে ভিকটিমের পরিবারকে হুমকি দেন।
এ ঘটনায় গত ৫ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভিক্টিম। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চরফ্যাশন থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দেন। ওইদিনই ভিক্টিম থানায় উপস্থিত হয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। পরদিন এসআই সিদ্দিক ভিক্টিমের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে ভিক্টিম ঘটনার সততা স্বীকার করে বিচার দাবি করেন।
পরবর্তীতে চরফ্যাশন থানার এসআই সিদ্দিক গত ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে যান এবং ভিক্টিমের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু রহস্যজনক কারনে মামলা রজু করেননি।
ভিক্টিমের চাচা শ্বশুর গত ৮ জুলাই পুনরায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করে মামলা নিতে পুলিশের গড়িমসি ও পরিবারের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি অবহিত করলে তিনি চরফ্যাশন থানার অফিসার ইনচার্জের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলবেন বলে জানান।
অবশেষে গত ১৮ জুলাই অফিসার ইনচার্জ এসআই মনিরসহ ২ পুলিশ কর্মকর্তাকে তদন্তে পাঠান ঘটনাস্থলে। এতে উপস্থিত লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার প্রাথমিক সততা পাওয়া যায়। ১৮ জুলাই থানা অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহন করেন।
ভিক্টিমের চাচা শ্বশুর হাজি নুর মোহাম্মদ মোল্লা অভিযোগ করেন, থানায় মামলা না করার জন্য প্রতিনিয়িত তাদের ওপর নানাভাবে চাপ প্রয়োগসহ ক্ষতিকরার হুমকি দিচ্ছিল আল আমিন ও তার ভাই ফিরোজ মোল্লা। ইতোমধ্যে ফিরোজ মোল্লা ভিক্টিমের কাছে স্থানীয় চৌকিদার ও দফাদার পাঠিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়েছেন।
আবুল কালাম মোল্লা জানান, অভিযুক্তের ভাই ফিরোজ মোল্লা পুলিশ পরিচয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের দিয়ে ফোনে আমাকে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছেন।
এ অবস্থায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকা ভিক্টিমের পরিবারটি অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে তাদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়েছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মনিরের কাছে জানতে চাইলে মোবাইল ফোনে জানান, অপরাধীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
সব বিষয়ে অভিযুক্ত আল আমিন ধর্ষণ চেষ্টা ও হুমকি-ধামকির বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, এসব অভিযোগ মিথ্যা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









