মাত্র ১০ টাকার ভূমি উন্নয়ন করের (খাজনা) রশিদ দিতে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার পর জনরোষের মুখে সেই টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছেন শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার লিটন দেওয়ান। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা তাকে ভূমি অফিসে অবরুদ্ধ করে রাখেন। সোমবার (২০ জুলাই) এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাজিরা উপজেলার বাসিন্দা আজিজুল হক জমি বিক্রির প্রয়োজনে জয়নগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে খাজনার রশিদ তুলতে যান। সেখানে তহসিলদার লিটন দেওয়ান বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। বাধ্য হয়ে আজিজুল হক একটি বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে ওই টাকা পাঠান। টাকা পাঠানোর পর তাকে যে সরকারি রশিদ দেওয়া হয়, তাতে খাজনা বাবদ সরকারি ফি উল্লেখ ছিল মাত্র ১০ টাকা।
ভুক্তভোগীর দাবি, অতিরিক্ত অর্থ ফেরত চাইলে তহসিলদার ও তার সহযোগীরা তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখায়। পরে জোরপূর্বক ‘কোনো টাকা নেওয়া হয়নি’—এমন বক্তব্য রেকর্ড করে ভিডিও ধারণ করা হয়। অফিস থেকে বের হয়ে আজিজুল হক বিষয়টি স্থানীয়দের জানালে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জয়নগর ইউনিয়ন ভূমি অফিস ঘেরাও করে তহসিলদারকে অবরুদ্ধ করেন। পরে চাপের মুখে তিনি ২০ হাজার টাকা ফেরত দেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, লিটন দেওয়ান দীর্ঘদিন ধরে ভূমি সেবার নামে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে আসছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে সাংবাদিকরা জয়নগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গেলে অভিযুক্ত তহসিলদার দ্রুত সেখান থেকে চলে যান এবং পরবর্তীতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। উল্টো সংবাদটি প্রকাশ না করার জন্য তিনি গণমাধ্যমকর্মীকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে জাজিরা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি আমি দেখেছি। ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট তহসিলদারকে তলব করে তদন্ত করা হবে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে কঠোর বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









