টানা বর্ষণে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এলেও থেমে নেই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম। বৃষ্টি, কাদা ও জলাবদ্ধতাকে উপেক্ষা করে প্রতিদিনই বিদ্যালয়ের উদ্দেশে ছুটছে তারা। কারও হাতে ছাতা, কারও গায়ে রেইনকোট, আবার কেউ ভেজা পোশাকেই পৌঁছে যাচ্ছে শ্রেণিকক্ষে।
সোমবার (২০ জুলাই) সকালে উপজেলার পূর্ব পাগলা, পশ্চিম পাগলা, জয়কলস, শিমুলবাঁক, পাথারিয়া ও দরগাপাশা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, দলবেঁধে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের পথে হাঁটছে। কোথাও কাঁচা সড়কে হাঁটুসমান কাদা, কোথাও জমে থাকা পানি পেরিয়ে স্কুলে যেতে হচ্ছে তাদের। অনেক অভিভাবক ছোট শিশুদের হাত ধরে কিংবা ছাতা মাথায় দিয়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিচ্ছেন।
শিক্ষার্থী নাদিম আহমেদ বলেন, ‘‘প্রতিদিন বৃষ্টির মধ্যে ভিজে স্কুলে আসতে হয়। অনেক সময় কাদামাখা রাস্তা পেরিয়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে হয়। এতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। তারপরও পড়াশোনার জন্য নিয়মিত স্কুলে আসি।’’
অভিভাবক কাঞ্চনমালা বলেন, ‘‘প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে যাতায়াতে ভোগান্তি বাড়লেও সন্তানদের পড়াশোনা ব্যাহত করতে চান না তারা। তাই কষ্ট হলেও নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠানোর চেষ্টা করছেন।’’
এ বিষয়ে হোয়াইট বার্ড একাডেমির সহকারী শিক্ষক নিউটন সূত্রধর শুভ বলেন, ‘‘বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি সন্তোষজনক। তবে অনেক শিক্ষার্থী ভেজা অবস্থায় শ্রেণিকক্ষে পৌঁছায়, যা তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ কাঁচা সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় বিদ্যালয়ে যাতায়াতে দুর্ভোগ বেড়েছে।’’
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ সড়ক দ্রুত সংস্কার, প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। শিক্ষা কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে এসব সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









