বহুল প্রতীক্ষিত আয়নী ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ে একমাত্র আসামি রুবেলের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে এই রায় ঘোষণা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল ২-এর বিচারক সাইফুর রহমান।
১০ বছরের শিশু আবিদা সুলতানা আয়নী (আঁখি মনি)। তিন বছর আগে বিড়াল ছানার লোভ দেখিয়ে পাশবিক নির্যাতন ও বালিশ চাপা দিয়ে মেরে ময়লার স্তূপে চাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল।
আট দিন পর শিশুটির মা আদালতের দ্বারস্থ হলে পচে গলে যাওয়া শিশুটিকে উদ্ধার করে পিবিআই। সিসিটিভি ফুটেজ, ডিএনএ রিপোর্ট ও ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে আসামির অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে বলে জানান বাদীর আইনজীবী।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২১ মার্চ বিকালে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থানার কাজীর দিঘি এলাকার বাসা থেকে আরবি পড়তে বেরিয়ে নিখোঁজ হয় ১০ বছর বয়সী আবিদা সুলতানা আয়নী ওরফে আঁখি মনি। নিখোঁজের ৮ দিনেও তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায়, একজন বড় পুলিশ কর্মকর্তার সহযোগিতায় শিশুটির মা যোগাযোগ করেন আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদের সাথে। এরপর ঘটনার ৮ দিনের মাথায় ২৮ মার্চ তৎকালীন চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২-এর বিচারক শারমিন জাহানের আদালতে আসামি মো. রুবেল বিড়াল ছানা দেওয়ার লোভ দেখিয়ে আয়নীকে অপহরণ করার অভিযোগে শিশুটির মা বিবি ফাতেমা বাদী হয়ে মামলা করলে আদালত পাহাড়তলী থানার ওসিকে এজাহার হিসেবে নিতে নির্দেশ দেন।
ওইদিন রুবেলকে আটকের পরই তার স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে ২৯ মার্চ ভোরে পার্শ্ববর্তী পুকুরপাড়া মুরগি ফার্ম এলাকার একটি জলাশয় থেকে আয়নীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পিবিআই।
জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল আঁখি মনিকে বিড়ালছানার প্রলোভন দেখিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি খালি ভবনের চতুর্থ তলায় নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে এবং পরবর্তীতে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর এই মামলার একমাত্র আসামি মো. রুবেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২-এর বিচারক।
২০২৫ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। যার মধ্যে মামলার বাদী, তদন্ত কর্মকর্তা, জব্দ তালিকার সাক্ষী, ডাক্তার, আসামির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেটসহ গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীরা রয়েছেন।
পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ২৭ এপ্রিল নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-এর বিচারক নির্যাতন দমন আইনের ৯(৪)(খ) এবং দণ্ডবিধির ৩০২/২০১ ধারায় মামলাটিতে পুনরায় চার্জ গঠন করেন।
তবে ঘটনার ৮ দিন পর উদ্ধার হওয়ায় আয়নীর উদ্ধারকৃত লাশে পচন ধরায় সুরতহাল প্রতিবেদনে ধর্ষণের সরাসরি আলামত পাওয়া যায়নি। ঘটনার আগের দিনের সিসিটিভি ফুটেজে আয়নীকে, আসামি সবজি বিক্রেতা রুবেলের সাথে রাস্তায় দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ কথা বলতে দেখা যায়। রুবেল তাকে বিড়ালছানা দেওয়ার লোভ দেখাচ্ছিল। পরের দিনের সিসিটিভির ফুটেছে দেখা যায় বোরকা পরে আয়নী ঘর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। যাওয়ার সময় তার এক সহপাঠীকেও বলছে সে বিড়াল ছানার জন্য যাচ্ছে।
তদন্ত সংস্থা পিবিআই’র জিজ্ঞাসাবাদে আসামি রুবেল আয়নীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ গুম করার কথা স্বীকার করলেও আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানায়, আয়নীকে জোরাজোরি করে ধর্ষণ করতে গিয়ে বীর্য বের হয়ে যায় এবং আয়নী চিৎকার করলে গলা টিপে হত্যা করে লাশটি গুম করা হয়।
বাদীর আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ বলেন, ‘‘আদালতের রায়ে তারা সন্তুষ্ট। তবে মামলার বাদী এবং আইনজীবী হিসেবে তিনিও চান মামলার রায় যেন দ্রুত কার্যকর করা হয়।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









