গাজীপুরের কালীগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীপথে ট্রলারে এসে সংঘবদ্ধ একদল দস্যু দুটি বালুর গদিতে হামলা চালিয়ে এক ব্যবসায়ীকে মারধর, এক ব্যবস্থাপককে অপহরণের চেষ্টা এবং নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, সিসিটিভির ডিভিআর ও বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল লুট করে নিয়ে গেছে। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে।
বুধবার (২২ জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন। এর আগে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের সোমবাজার এলাকায়।
আহত ব্যবসায়ী মঞ্জুর হোসেন (৬০) সোমবাজার এলাকার মৃত মমতাজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহতের ভগ্নিপতি আওলাদ হোসেন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে রূপগঞ্জের দিক থেকে ইঞ্জিনচালিত একটি ট্রলারে করে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দস্যুদল ঘটনাস্থলে আসে। তারা প্রথমে মঞ্জুর হোসেনের বালুর গদির পাশে ট্রলার নোঙর করে নিরাপত্তাকর্মী আকবর হোসেনকে (৭০) আটক করে বেঁধে ফেলে। পরে তাকে দিয়ে অফিসকক্ষে ঘুমিয়ে থাকা মঞ্জুর হোসেনকে বাইরে ডেকে আনা হয়।
দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গেই কয়েকজন দস্যু অফিসে ঢুকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে মঞ্জুর হোসেনকে জিম্মি করে বেধড়ক মারধর করে। একপর্যায়ে ক্যাশ বাক্সের চাবি ছিনিয়ে নিয়ে দিন ও রাতের বালু বিক্রির কয়েক লাখ টাকা, ব্যবহৃত কয়েকটি মোবাইল ফোন এবং সিসিটিভি ক্যামেরার ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডার (ডিভিআর) নিয়ে যায় তারা।
এরপর দস্যুরা নদীতে নোঙর করা একটি আনলোড ড্রেজারে উঠে সেখানে থাকা চারজন শ্রমিকের হাত-পা বেঁধে ফেলে। পরে ড্রামে সংরক্ষিত লাখ টাকারও বেশি মূল্যের জ্বালানি তেল ড্রামসহ ট্রলারে তুলে নিয়ে যায়।
একই সময়ে পাশের আরেকটি বালুর গদিতেও হামলা চালায় দস্যুরা। সেখানে ব্যবস্থাপক দেলোয়ার হোসেনকে (৫০) মারধর করে নগদ ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা, একটি মোবাইল ফোন এবং সিসিটিভির ডিভিআর লুট করা হয়। পরে তাকে জিম্মি করে ট্রলারে তুলে রূপগঞ্জের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে কিছু দূর যাওয়ার পর দেলোয়ার হোসেন নদীতে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে তীরে উঠে স্থানীয়দের কাছে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে এলাকাবাসী আহত মঞ্জুর হোসেনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, লুটপাট চলাকালে দস্যুদের একটি অংশ ভেতরে তল্লাশি চালালেও অন্যরা বাইরে অবস্থান নিয়ে পাহারা দিচ্ছিল। তাদের অধিকাংশের মুখে মাস্ক ও মুখোশ ছিল। দস্যুদের বয়স আনুমানিক ৩০ বছরের বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ঘটনার আগের দিন কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। তাদের শ্রীপুর থেকে আসা বলে জানা গেছে। সূত্রটির ধারণা, এ ঘটনায় স্থানীয় কোনো চক্রের সহযোগিতা থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি।
ঘটনার খবর পেয়ে ভোরেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, "খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে রাত পর্যন্ত ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









