তরুণ প্রজন্মকে মাদক, জুয়া ও মোবাইল আসক্তির মতো সামাজিক ব্যাধি থেকে দূরে রেখে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন ক্রীড়া ক্লাব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের মাঝে ধারাবাহিকভাবে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গোলাহাট এপিএস ক্রীড়া চক্রের প্রতিনিধিদের হাতে একটি ফুটবল ও একটি মিনি গোলপোস্ট তুলে দেন সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা। এ সময় উপজেলা প্রকৌশলী এম এম আলী রেজা রাজু, সাংবাদিক নওশাদ আনসারীসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, ক্রীড়া সংগঠক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন তহবিলের আওতায় এর আগেও উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বিভিন্ন ক্রীড়া ক্লাব ও সংগঠনের মাঝে ফুটবল, মিনি গোলপোস্ট, নেট, ক্রিকেট ব্যাট, গøাভস, উইকেটসহ নানা ধরনের খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার আরও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের মাঝেও এসব সামগ্রী বিতরণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, তরুণ প্রজন্মের সুস্থ দেহ ও সুন্দর মানসিক বিকাশে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সময়ে অনেক তরুণ মাদক ও মোবাইল গেমের আসক্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের মাঠমুখী করতে এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারায় অভ্যস্ত করে তুলতেই উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগ। আমরা চাই তারা খেলাধুলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শারীরিকভাবে সুস্থ, মানসিকভাবে দৃঢ় এবং পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হয়ে উঠুক।
উপজেলা প্রকৌশলী এম এম আলী রেজা রাজু বলেন, উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন তহবিলের আওতায় বিভিন্ন ক্রীড়া ক্লাব, সামাজিক সংগঠন ও উপজেলা বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী ফুটবল, নেট, গোলপোস্ট, ক্রিকেট ব্যাট, গøাভস ও উইকেট বিতরণ করা হচ্ছে। বড় মাঠের জন্য বড় গোলপোস্ট এবং ছোট মাঠের জন্য ছোট গোলপোস্ট দেওয়া হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য তরুণদের মাদক, জুয়া ও মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে রেখে খেলাধুলার মাধ্যমে একটি সুস্থ ও ইতিবাচক সমাজ গড়ে তোলা। ভবিষ্যতেও শিক্ষা ও ক্রীড়ার উন্নয়নে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উল্লেখ করে বলেন, নিয়মিত ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে তরুণরা খেলার মাঠে ফিরবে। এতে উপজেলা থেকে প্রতিভাবান ফুটবলার ও ক্রিকেটার গড়ে উঠবে। পাশাপাশি তরুণ সমাজের মধ্যে খেলাধুলার সংস্কৃতি আরও বিকশিত হবে এবং সামাজিক অবক্ষয় রোধেও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









