চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় অপহরণের দুই দিনের মধ্যে সাত বছর বয়সী শিশু ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত অপহরণ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অপহরণের কাজে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও জব্দ করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দিবাগত রাতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. রাকিব (২২), মো. ফয়সাল (৩২) ও মো. জাহাঙ্গীর আলম (৫৫)।
রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. বেলায়েত হোসেন জানান, গত ২০ জুলাই সকালে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানাধীন পশ্চিম সরফভাটা ইমাম আজম আবু হানিফা (র.) স্কুলের নার্সারির শিক্ষার্থী ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন (৭) প্রতিদিনের ন্যায় স্কুলে গিয়ে ছুটির পর বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে তাসকিনের সহপাঠীরা পরিবারকে জানায়, তাসকিনের বাবা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে এমন কথা বলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার অজুহাতে এক ব্যক্তি সিএনজিতে করে তাসকিনকে তুলে নিয়ে গেছে।
এই ঘটনায় অপহৃত শিশু তাককিনের পিতা দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার সমন্বয়ে একাধিক টিম অপহৃত শিশু উদ্ধারে অভিযান শুরু করে।
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের যৌথ টিম রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্নস্থানে অভিযান চালায়। এক পর্যায়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার এবং অপহৃত শিশুটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় , গ্রেপ্তারকৃত মো. ফয়সাল অপহৃত শিশু তাসকিনের পিতা দেলোয়ার হোসেনের আপন মামাতো ভাই। সে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তাসকিনকে অপহরণ করে তার পিতার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে ও মুক্তিপণের অর্থ থেকে ভাগ দেওয়ার কথা বলে পরিচিত সিএনজি চালকদের এই ঘটনায় সম্পৃক্ত করে।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক তাদেরকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









