বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হারতা বাজারে মৎস্য বিভাগের বিশেষ অভিযানে প্রায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ জালের বেচাকেনার অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরিচালিত এ অভিযানে চায়না দুয়ারি জাল, কারেন্ট জাল ও বোডা জাল উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত মৎস্য সংরক্ষণ ও সুরক্ষা আইন, ১৯৫০ (সংশোধিত-২০২৫) এর ধারা ৫(১) অনুযায়ী এ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজার সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শে অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রসেন মজুমদার। অভিযানে অংশ নেন উপজেলা মৎস্য দপ্তরের ক্ষেত্র সহকারী বিকাশ কুমার নাগ, অফিস সহকারী শৈলেন ঘরামী এবং উজিরপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ফাহাদসহ পুলিশের সদস্যরা।
উপজেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে ১৯২টি চায়না দুয়ারি জাল, ১ লাখ ১০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল এবং ৮৯টি বোডা জাল জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত জালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা। জব্দের পর পরিবেশ ও আইনগত বিধান অনুসরণ করে সবগুলো অবৈধ জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে হারতা বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ জাল বিক্রি করে আসছিল একটি অসাধু চক্র। এসব জাল ব্যবহার করে নদ-নদী, খাল-বিল ও উন্মুক্ত জলাশয়ে নির্বিচারে মাছ এবং মাছের পোনা আহরণ করায় দেশীয় প্রজাতির মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে জলজ জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।
অভিযান চলাকালে বাজারে মজুত ও বিক্রির জন্য রাখা বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে ভবিষ্যতে নিষিদ্ধ জাল বিক্রি, মজুত কিংবা ব্যবহারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রসেন মজুমদার বলেন, ‘‘দেশীয় মাছের প্রজনন ও প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ রক্ষায় নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে। অবৈধ জাল বিক্রি, মজুত বা ব্যবহারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক, আইনের আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা বলেন, ‘‘মৎস্যসম্পদ বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের যৌথ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। যারা আইন অমান্য করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
এদিকে স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার বিভিন্ন নদ-নদী ও খালে দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে অবাধে মাছ শিকারের অভিযোগ ছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবেদন ও পোস্টের মাধ্যমে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। জনমত সৃষ্টি হওয়ার পর মৎস্য বিভাগ হারতা বাজারে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এমন ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকলে নিষিদ্ধ জালের অবাধ বেচাকেনা ও ব্যবহার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং দেশীয় মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









