ময়মনসিংহের কোতোয়ালী থানা এলাকায় বহুল আলোচিত সোহেল সরকার (২৫) নামের এক যুবককে নৃশংসভাবে গলা কেটে মাথা বিচ্ছিন্ন করে হত্যার ঘটনার চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ। স্ত্রীর সাথে পরকীয়া প্রেমের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে গ্রেপ্তারকৃতরা।
রবিবার (২৬ জুলাই) জেলা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মীরকান্দাপাড়া এলাকার মজিবর রহমানের ছেলে মো. সেলিম (৩০), আব্দুল রশিদের ছেলে মো. সেলিম ওরফে নাপিত সেলিম (৩২), মো. রমজান আলীর ছেলে মো. আব্দুল কাদির ওরফে আলামিন (২৫) এবং আব্দুল জলিলের ছেলে লাল চাঁন ওরফে লালু (২৬)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কোতোয়ালী থানাধীন ৪ নং পরানগঞ্জ ইউনিয়নের মীরকান্দাপাড়া গ্রামের মো. নূরুল ইসলামের ছেলে সোহেল সরকার বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। এ বিষয়ে পরিবার থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করে। পরবর্তীতে ২২ জুলাই বিকেলে অম্বিকাগঞ্জ মহাবিদ্যালয়ের মাঠের উত্তর পাশের একটি বাগানে মাথা বিচ্ছিন্ন ও অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্য ও কোতোয়ালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে খণ্ডিত মাথা ও মাটির নিচে চাপা দেওয়া দেহ উদ্ধার করে। নিহত সোহেলের বাবা বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৮৩, তারিখ-২৫/০৭/২০২৬)।
ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আশরাফুল করিম বলেন,
‘‘মামলা রুজুর পর ময়মনসিংহের পুলিশ সুপারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (২৫ জুলাই) দিবাগত রাতে ভালুকার আঙ্গারগারা এলাকা থেকে প্রধান অভিযুক্ত মো. সেলিমকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সারবাজার, মীরকান্দাপাড়া ও মহারাজা রোড এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে বাকি তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘অভিযানে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো দা, কোদাল এবং ভিকটিমের রক্তমাখা পোশাক ও স্যান্ডেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।’’
গ্রেপ্তারকৃত সেলিম জানায়, তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে সোহেল গত ৩ মাস ধরে গোপনে ঢাকায় বসবাস করছিলেন। এই ক্ষোভের জের ধরেই সোহেলকে ঢাকা থেকে কৌশলে ডেকে এনে পূর্বপরিকল্পিতভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









