সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ও মধ্যনগর উপজেলায় অবস্থিত দ্বিতীয় রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওরে মাত্র ৪০০ টাকার বিনিময়ে জেলেদের মাছ ধরার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সংরক্ষণে দায়িত্বে থাকা এক কমিউনিটি গার্ডের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ ওঠার পর সংবাদ প্রকাশিত হলে, সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য ও হুমকির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত ওই কমিউনিটি গার্ডের নাম হবিব মিয়া।
অভিযোগ রয়েছে, টাঙ্গুয়ার হাওর সংরক্ষণের দায়িত্বে থাকা কমিউনিটি গার্ড হবিব মিয়া টাকার বিনিময়ে জেলেদের হাওরে অবৈধভাবে মাছ শিকারের সুযোগ করে দিচ্ছেন। এ বিষয়ে এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
এদিকে এসব সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরই ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশে অশালীন মন্তব্য ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে হবিব মিয়ার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একটি অডিওতে তাকে সাংবাদিকদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য এবং এক ব্যক্তিকে মারধরের হুমকি দিতে শোনা যায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, সম্প্রতি ভোরে সীমান্তের ওপার থেকে চোরাই পথে আনা কয়লাবোঝাই একটি নৌকা টাঙ্গুয়ার হাওর দিয়ে পাচারের সময় আটক এবং অর্থ আদায়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় এক ব্যক্তির সঙ্গে হবিব মিয়ার কথোপকথন হয়। ওই কথোপকথনেই সাংবাদিকদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে অশালীন ভাষা ব্যবহার ও হুমকি দেওয়া হয়, যা পরবর্তীতে এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
তবে সাংবাদিকদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য ও হুমকি দেওয়ার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে কমিউনিটি গার্ড হবিব মিয়া দাবি করেন, "আমি সাংবাদিকদের নিয়ে কোনো আপত্তিকর মন্তব্য করিনি এবং কোনো সাংবাদিককে হুমকিও দিইনি। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।"
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গুয়ার হাওর সংরক্ষণের দায়িত্বে থাকা কমিউনিটি গার্ডদের মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে যাওয়ায় এ বিষয়ে কমিউনিটি গার্ড প্রধান বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাংবাদিকরা বলছেন, সংবাদে কোনো ভুল বা আপত্তি থাকলে তা আইনগতভাবে বা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মোকাবিলা করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকদের উদ্দেশে অশালীন ভাষা ব্যবহার বা হুমকি প্রদান স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। তারা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অডিওর সত্যতা যাচাই এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ জানান, "এ বিষয়ে আমরা এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
অন্যদিকে, এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিকের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









