সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ কমানোর পাশাপাশি শিক্ষিত বেকার যুবকদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে ১৬ সপ্তাহব্যাপী গ্রাফিক্স ডিজাইন ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করেছে ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি)।
বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মাছখুড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের আইসিটি কক্ষে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এর মাধ্যমে সীমান্ত এলাকার তরুণ-তরুণীদের তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়নের (৫০ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খ. আখলাকুর রহমান। এ ছাড়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. খোদাদাদ হোসেন, সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তারা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনের আগে বিদ্যালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকার শিক্ষিত ও বেকার তরুণ-তরুণীদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে বিজিবির এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে এ কর্মসূচি কার্যকর হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, “তথ্যপ্রযুক্তি খাত তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। গ্রাফিক্স ডিজাইন ও ফ্রিল্যান্সিংয়ে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণরা নিজের কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও অবদান রাখতে পারবেন।”
তিনি আরও বলেন, “সীমান্ত অঞ্চলের শিক্ষিত বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের আওতায় আনা গেলে চোরাচালান, মাদক এবং অন্যান্য সীমান্ত অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের আশ্বাস দেন তিনি।”
সভাপতির বক্তব্যে ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খ. আখলাকুর রহমান বলেন, “সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নেও বিজিবি কাজ করে যাচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় শিক্ষিত বেকার যুবকদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা আউটসোর্সিং ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে ঘরে বসেই আয় করতে পারবেন। এতে সীমান্ত এলাকার তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে এবং তারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থেকে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন।”
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, “এ ধরনের বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও আত্মনির্ভরশীল হতে সহায়তা করবে। কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হলে যুবসমাজ মাদক, চোরাচালান ও অন্যান্য সামাজিক অপরাধ থেকেও দূরে থাকবে।”
আয়োজকদের আশা, প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা ডিজিটাল দক্ষতা অর্জন করে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কাজ করার সক্ষমতা অর্জন করবেন


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









