ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় গভীর রাতে বসতঘরের জানালা ভেঙে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১৫) জোরপূর্বক তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্থানীয়দের হাতে আটক দুইজনকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হলে পরে অভিযানে আরো একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন হেলাল মৃধা (২০), রইস শিকদার (১৬) ও রনি বেপারী (১৭)।
ভুক্তভোগী কিশোরী বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ভুক্তভোগীর প্রতিবেশী আ. খায়ের শেখ বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এলাকায় জুয়া, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই স্কুলছাত্রীকে বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তারা বিরত হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের সেই উত্যক্তের ধারাবাহিকতায় পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
আরেক প্রতিবেশী মো. জাবেদ বলেন, অভিযুক্তরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। তারা কিশোর গ্যাংয়ের প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছে। গ্রেপ্তার হওয়া দুজন ছাড়াও মনির খান, মিঠুন সরদার, ইমন বেপারীসহ আরও কয়েকজন ওই গ্যাংয়ের সদস্য বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয় ভাষাণচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ গোলাম কাওছার বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি খোঁজখবর নিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন, মাদক ব্যবসা এবং কিশোর গ্যাং পরিচালনার সঙ্গে জড়িত বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীর মা লাকি আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “শাশুড়ির অপারেশনের জন্য হাসপাতালে ছিলাম। খবর পেয়ে বাড়ি এসে মেয়ের এই অবস্থা দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছি। আমার মেয়েকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আমি জড়িত সবার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”
কিশোরীর ছোট বোন জানায়, দুর্বৃত্তরা জানালা ভেঙে ঘরে ঢুকে তার বোনকে চুল ধরে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীর চাচা আবু তালেব মিয়া জানান, ঘটনার রাতে কিশোরীর দাদির চোখের চিকিৎসার জন্য তিনি ও কিশোরীর মা ফরিদপুরের একটি হাসপাতালে ছিলেন। বাড়িতে কিশোরী তার ছোট ভাই ও ছোট বোনকে নিয়ে অবস্থান করছিল। রাত ১টার দিকে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িটি ঘিরে ফেলে। তারা প্রথমে দরজা খুলতে চাপ দেয়। ভেতর থেকে দরজা না খোলায় জানালা ভেঙে কিশোরীকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যায়।
তিনি আরো জানান, স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাদের সরিয়ে দেয়। পরে কিশোরীকে মোটরসাইকেলে করে পাশের গ্রামের একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে গিয়ে তিন যুবক পালাক্রমে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, রাত ৩টার দিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কিশোরীকে বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে অভিযুক্তরা। এ সময় এলাকাবাসী ধাওয়া দিয়ে হেলাল মৃধা (২০) ও রইস শিকদার (১৬) নামে দুইজনকে একটি মোটরসাইকেলসহ আটক করে সদরপুর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয়দের হাতে আটক দুই আসামিকে শনিবার সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পরে রনি বেপারী নামে আরো একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে সদরপুর উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









