জুলাই গণঅভ্যুত্থান আন্দোলনে চট্টগ্রামে প্রথম শহীদ হয়েছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা ওয়াসিম আকরাম। শহীদ হওয়ার মাত্র ১৬ ঘণ্টা আগে ফেসবুকে ওয়াসিম লিখেছিলেন, “সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে আছে আমার প্রাণের সংগঠন (ছাত্রদল), আমি এই পরিচয়েই শহীদ হবো।
প্রাণ দিয়েও অটুট ছিলেন নিজের আদর্শে, নিজের চেতনায়। তিনি শুধু ছাত্রদলের নয়—সারা দেশের ছাত্রসমাজের অমর শহীদ।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে চট্টগ্রামে ১৬ জুলাই বেলা ৩টার দিকে চট্টগ্রামের মুরাদপুর এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগের দ্বিমুখী সংঘর্ষে ওয়াসিম শহীদ হন।
চট্টগ্রাম কলেজের সমাজবিজ্ঞান অনুষদে স্নাতক তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত ওয়াসিম চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি চকবাজার এলাকার একটি মেসে থাকতেন।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শুরু থেকেই সক্রিয় ছিলেন ওয়াসিম। তিনি নগরীর প্রতিটি কর্মসূচিতে অংশ নিতেন। আন্দোলন ধীরে ধীরে সহিংস হয়ে উঠলেও দমে যাননি স্বৈরাচারবিরোধী অকুতোভয় এ ছাত্রদল নেতা। বরং অন্য সহযোদ্ধাদের মতোই আরো বেশি সংগ্রামী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন।
মধ্য জুলাইয়ে পরিস্থিতি মারমুখী হয়ে ওঠে। ১৬ জুলাই দুপুর থেকে নগরীর বিভিন্ন মোড়ে অবস্থান নেয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা । বিকেল ৩টা থেকে নগরীর মুরাদপুর, ২ নং গেট ও ষোলশহরের আশপাশের এলাকায় কোটা আন্দোলনকারীদের সাথে ছাত্রলীগ-যুবলীগ ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের শুরুতে লাঠিপেটা করা হলেও, পরে গুলিবর্ষণ করে পুলিশ। আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে এদিক-সেদিক ছুটোছুটি শুরু করে। পরে তারা ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এভাবে অনেক্ষণ চলতে থাকে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া। পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের অনেকে অলিগলিতে ঢুকে পড়লে সেখানেও খুঁজে বের করে হামলা করা হয়।
ওয়াসিম আকরাম জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতা ও কর্মী। কক্সবাজার জেলার পেকুয়া সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ মেহেরনামা বাজার এলাকার প্রবাসী শফিউল আলমের মেঝ ছেলে তিনি।
ওয়াসিমের বাবা প্রবাসী, মধ্যপ্রাচ্যের কাতারে একটি কোম্পানিতে চাকুরি করেন। পিতামাতার ৫ সন্তানের মাঝে ওয়াসিম দ্বিতীয়। সবাই গ্রামের বাড়িতে থাকেন। বড় ভাই মহিউদ্দিন চাকুরি করেন। ছোট আরো এক ভাই ও দুই বোন লেখাপড়া করে।
১৭ জুলাই সকালে ১১টার দিকে চাচা মাওলানা জয়নাল ইমামতিতে ওয়াসিমের জানাজা হয়। এরপরই পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। চট্টগ্রাম শহরে পড়াশোনার ফাঁকে গ্রামে যেতেন ওয়াসিম। বিনয়ী হওয়ার কারণে সবাই তাকে পছন্দ করতেন।
১৩ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করেছেন এবং ওয়াসিমের মা-বাবাকে সান্ত্বনা দিয়েছেন। ওই সময় ওয়াসিমের মা জোসনা বেগম প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটা দাবিই করেছিলেন, এখন তাদের চাওয়া একটাই, ওয়াসিমসহ সব শহীদের হত্যাকারীদের বিচার।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









