শ্রম আইন অনুযায়ী বেতন ও সঠিক কর্মঘন্টা নির্ধারণ, প্রভিডেন্ড ফান্ড চালু, অঙ্গহানী শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ ও সুস্থ হওয়া পর্যন্ত স্ববেতনে বহাল, মহিলা শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ভাতা ও স্ববেতনে ৬ মাসের ছুটি, কোম্পানির অভ্যন্তরে অনিয়ম, দূর্নীতি দূরীকরণ এবং দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের অপসারণসহ বিভিন্ন দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচী পালন করেছে প্রাণ আরএফএল পাবনা প্রোডাক্টস লিমিটেড এর কর্মকর্তা কর্মচারীরা।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭ ঘটিকায় ঈশ্বরদী-পাবনা মহাসড়কে কালিকাপুর পাকুড়িয়া এলাকায় এ বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়।
৩ ঘন্টা ব্যাপী চলমান এ অবস্থান কর্মসূচীর কারণে পাবনার সাথে রাজশাহী, কুষ্টিয়া, বগুড়া, রংপুর ও ঈশ্বরদীর মধ্যে চলাচলকারী সকল প্রকার যানবাহনের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলের উভয পার্শ্বে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার, ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ আসাদুর রহমান, স্থানীয় বিএনপি নেতা শরিফুল ইসলাম তুহিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আন্দোলন কারীদের দাবি পূরণের আশ্বস্থ করলে তারা মহাসড়ক ছেড়ে দেয়। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
প্রাণ আরএফএল পাবনা প্রোডাক্টস লিমিটেড এর শ্রমিক নেতা নাজমুল হোসেন বলেন, বাংলাদেশের শ্রম আইনের পূর্ণ বাস্তবায়ন, সরকারী ছুটির দিনে কারখানা বন্ধ, শ্রমিকদের যাতায়াত ফ্রি, খাবারের সময় ওটিতে যুক্ত করন, অপবাদ দিয়ে শ্রমিক ছাটাই বন্ধকরতে হবে, এক কালীন বোনাসসহ সরকারী সকল নিয়ম মেনে আমাদের সেগুলোর সুধি প্রদান করতে হবে। অন্যথায় আমাদের এ আন্দোলন চলমান থাকবে। এসময় তারা কোম্পানির দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের প্রদত্যাগ দাবি করেন।
প্রাণ আরএফএল পাবনা প্রোডাক্টস লিমিটেড এর সহকারী হিসাব রক্ষক আবু তাহের বলেন, টেকনিক্যাল ত্রুটির কারনে জুলাই মাসের বেতন প্রদানে একটু বিলম্ব হয়েছে। আমরা সমাধানের চেষ্টায় রয়েছি। আশা করছি যারা এখনো বেতন পাননাই তারা দ্রুতই বেতন পেয়ে যাবে।
ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দাশুড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম তুহিন বলেন, শ্রমিকদের দাবি গুলো আমরা জানার চেষ্টা করেছি। সেগুলো যেন পূরণ করা হয় সে বিষয়ে আমরা আশ্বস্থ করেছি। জনভোগান্তি লাঘবে সড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে। আলোচনা সাপেক্ষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গুলো গ্রহন করা হবে।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসাদুর রহমান বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলনে সড়ক অবরোধ করার কারনে পাবনার দেশের উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গের মধ্যকার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আমরা কোম্পানির প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে শ্রমিক নেতাদের তাদের দাবির বিষয়ে আশ্বস্থ করেছি। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে।
প্রাণ আরএফএল পাবনা প্রোডাক্টস লিমিটেড পাবনার এজিএম জাকির হোসেন বলেন, চলমান আন্দোলন ও শ্রমিকদের দাবি গুলো নিয়ে কোম্পানির উর্দ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করা হবে। সেজন্য আগামী এক সপ্তাহ (৭দনি) কোম্পানি বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। আবেদন গুলো পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত জানানো যাবে।
ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রনব কুমার বলেন, শ্রমিকদের দাবি দাওয়া গুলো নিয়ে উভয় পক্ষের সাথেই প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। যোক্তিক দাবি গুলোকে গুরুত্বের সাথে দেখতে বলা হয়েছে। তারা দাবি গুলো নিয়ে উচ্চপদস্থদের সাথে পর্যালোচনা শেষে জানাবেন।
বেতন সমস্যার কথা শ্রমিকরা বলেছন, সেগুলো দ্রুতই সমাধান হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









