মাদারীপুরের শিবচরে জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং অবৈধ পথে বিদেশ গিয়ে দেশে ফিরে আসা অভিবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও ইতালি দূতাবাসের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা। এ সময় তারা ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ অভিবাসনের ভয়াবহ পরিণতি তুলে ধরে বৈধ উপায়ে বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে উপজেলার সন্নাসীরচর ইউনিয়নের সন্নাসীরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে আইওএমের সহায়তায় পুনর্বাসন ও জীবিকা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় উপকৃত প্রত্যাবর্তনকারী অভিবাসী এবং জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বিভিন্ন উদ্যোগ পরিদর্শন করেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও কমিউনিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং অবৈধ পথে যাওয়া ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে তাদের কথা শুনেন।
এ সময় অবৈধ পথে বিভিন্ন দেশে গিয়ে নানা প্রতিকূলতার শিকার হয়ে দেশে ফিরে আসা অভিবাসীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তাদের বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা শুনে উপস্থিত কর্মকর্তারা বলেন, অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার ঝুঁকি অত্যন্ত ভয়াবহ। এ ধরনের যাত্রায় মানবপাচার, নির্যাতন, প্রতারণা ও জীবনহানির মতো ঘটনা ঘটতে পারে। তাই নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন নিশ্চিত করতে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তারা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইওএমের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল ফর অপারেশন্স উগোচি ড্যানিয়েল বলেন, “শিবচরে এসে আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন-জীবিকা এবং আইওএমের সহায়তায় পুনর্বাসিত প্রত্যাবর্তনকারী অভিবাসীদের বিভিন্ন উদ্যোগ সরেজমিনে দেখেছি। একই সঙ্গে অবৈধ পথে বিদেশ গিয়ে ফিরে আসা মানুষের কষ্টের অভিজ্ঞতা শুনেছি। এসব অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে, অবৈধ অভিবাসন কখনোই নিরাপদ নয়। তাই আমরা সবাইকে বৈধ উপায়ে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ গ্রহণের আহ্বান জানাই।”
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন লাউরা টম বন্ডে, আইওএমের এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক লরি কাটো, বাংলাদেশে ইতালি দূতাবাসে সংযুক্ত ইতালিয়ান পুলিশের মেজর গিউসেপ্পে দি জিওভান্নি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা, সন্নাসীরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কোহিনুর হাওলাদারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় স্থানীয় জনগণের সক্ষমতা বৃদ্ধি, নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে সচেতনতা এবং প্রত্যাবর্তনকারী অভিবাসীদের টেকসই পুনর্বাসনে সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









