টানা তিন দিনের ছুটিতে যেন ঈদের আমেজ নেমেছে শিল্পনগরী গাজীপুরে। কর্মব্যস্ত নগরীর ব্যস্ততা কিছুটা কমলেও মহাসড়কে বেড়েছে মানুষের ব্যস্ততা। পরিবারের সঙ্গে ছুটির সময় কাটাতে শিল্পকারখানার শ্রমিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ সকাল থেকেই ছুটছেন গ্রামের বাড়ির দিকে। ফলে গাজীপুরের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড ও মহাসড়কে তৈরি হয়েছে ঘরমুখী মানুষের উপচে পড়া ভিড়।
ভোর হতেই হাতে ব্যাগ, কাঁধে লাগেজ আর কোলে শিশু নিয়ে অনেককে বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কেউ কাঙ্ক্ষিত বাসের অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন, আবার কেউ অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েই গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। যাত্রীদের চাপের কারণে কোথাও কোথাও যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বাড়ি ফেরার আনন্দের পাশাপাশি পরিবহন সংকট, অতিরিক্ত ভাড়া ও যানজটে ভোগান্তিও পোহাতে হচ্ছে ঘরমুখী মানুষকে।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড় এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা ও মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় এমন চিত্র দেখা গেছে।
শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে দুই দিনের সরকারি ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার মিলিয়ে টানা তিন দিনের ছুটি পেয়েছেন শিল্পকারখানার শ্রমিকসহ কর্মজীবী মানুষ। এ কারণে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
উত্তরাঞ্চলের ২৬ জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় ভোর থেকেই বাড়তে থাকে ঘরমুখী মানুষের চাপ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মহাসড়কের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। দূরপাল্লার বাস, গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত গাড়ির পাশাপাশি মানুষের ব্যাপক উপস্থিতিতে পুরো এলাকা ব্যস্ত হয়ে ওঠে।
এদিকে ছুটির সুযোগে বিভিন্ন পরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। তাদের অভিযোগ, অনেক বাস কাউন্টারে টিকিট সংকটের কথা বলে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে। এতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকশ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে বাড়ি ফিরতে।
চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় বাস কাউন্টারে অপেক্ষমাণ যাত্রী জেরিন আক্তার বলেন, ‘তিন দিনের ছুটি পেয়েছি। তাই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে বাড়ি যাচ্ছি। কিন্তু কাউন্টারে এসে দেখি টিকিট নেই। দুটি বাসে ওঠার চেষ্টা করেছি। ৭০০ টাকার ভাড়া চাওয়া হচ্ছে ১ হাজার টাকা।
আরেক যাত্রী ইকলাছুর রহমান বলেন, উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো ছুটিতে বাড়ি ফেরার সময় বাসভাড়া বেড়ে যাওয়া। আজ অনেক মানুষ বাড়ি ফিরছে—এই সুযোগে ৫০০ টাকার ভাড়া ৮০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।’
চন্দ্রা এলাকার শাহ ফাতেহ আলী পরিবহনের কাউন্টার মালিক ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘যাত্রীর চাপ বেড়ে গেলে পরিবহনের সংকট তৈরি হয়। এ সময় কিছু যানবাহন কাউন্টারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বিভিন্ন কারণে তখন ভাড়া বেড়ে যায়।’
এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশ গাজীপুর রিজিয়নের নাওজোড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর হোসেন বলেন, ভোর থেকেই যাত্রীদের তীব্র চাপ দেখা দিয়েছে। সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ কাজ করছে। পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









