ভোরের আলো ফোটার আগেই পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার কাশীনাথপুর হাটে জড়ো হন শতাধিক দিনমজুর। কারও হাতে কোদাল, কারও হাতে বাঁশের ঝাঁকা, কেউ আবার খালি হাতে অপেক্ষায় থাকেন। উদ্দেশ্য একটাই-দিনের জন্য শ্রম বিক্রি করে পরিবারের মুখে দুমুঠো খাবার তুলে দেওয়া।
তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতির এই সময়েও কর্মসংস্থানের সংকট ও দারিদ্র্যের কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ এখনও প্রতিদিন শ্রমের হাটে এসে দাঁড়ান। কৃষক, গৃহমালিক ও ঠিকাদাররা সকালে হাটে এসে শ্রমিকদের সঙ্গে দরদাম করে দিন বা চুক্তিভিত্তিক কাজে নিয়ে যান।
স্থানীয়ভাবে এটি ‘‘কামলার হাট’’ বা ‘‘শ্রমের হাট” নামে পরিচিত। হাটে দৈনিক এদিনের জেলা প্রতিনিধির সাথে কথা হয় দিনমজুর মো. রিপন-এর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘‘গ্রামে সব সময় কাজ থাকে না। তাই ভোরে এখানে চলে আসি। ভাগ্য ভালো থাকলে কাজ পাই, না হলে খালি হাতেই বাড়ি ফিরতে হয়। শ্রমিক আব্দুল্লাহ বলেন, যেদিন কাজ পাই, সেদিন পরিবার নিয়ে ভালোভাবে খেতে পারি। কিন্তু অনেক দিন কাজ না পেয়ে সারাদিন অপেক্ষা করতে হয়।’’
দিনমজুর বকুল জানান, হাটে অনেক শ্রমিক আসে। সবাই কাজ পায় না। যারা কাজ পায় না, তারা হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়। আরেক শ্রমিক লতিফ সামসুল বলেন, আমাদের আয়ের অন্য কোনো পথ নেই। তাই প্রতিদিনই আশা নিয়ে হাটে আসি। স্থানীয় ব্যবসায়ী এনামুল হক বলেন, কাশীনাথপুরে কয়েক যুগ ধরেই এই শ্রমের হাট বসছে। প্রতিদিন ভোর থেকে শ্রমিকরা এখানে আসে, আর কৃষক ও বিভিন্ন কাজের লোকজন এখান থেকেই শ্রমিক নিয়ে যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মৌসুমভেদে প্রতিদিন প্রায় ৮০ থেকে ১৫০ জন শ্রমিক এই হাটে আসেন। কৃষিকাজের মৌসুমে শ্রমিকের চাহিদা বাড়লেও বছরের অন্যান্য সময় অনেকেই কাজ পান না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন শ্রমের হাট গ্রামীণ অর্থনীতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। নিয়মিত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং গ্রামীণ শিল্প সম্প্রসারণের মাধ্যমে এসব মানুষের জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব। পেটের দায়ে প্রতিদিন ভোরে শ্রম বিক্রির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর দৃশ্য মনে করিয়ে দেয়-দেশ এগোলেও এখনও অনেক মানুষের কাছে প্রতিটি সকাল শুরু হয় কাজের অনিশ্চয়তা আর বেঁচে থাকার সংগ্রাম দিয়ে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









